রাজিবুল হক রনি
মাদ্রাসা শিক্ষার সূচনা হয় হযরত মুহাম্মদ (স.) এর যুগে। তিনি ৬১৪ খ্রিস্টাব্দে মক্কার সাফা পাহাড়ের পাদদেশে দারুল আরকাম, হিজরতের পর মসজিদে নববীর উত্তর-পূর্ব দিকে সুফফা আবাসিক মাদ্রাসা এবং দারুল কুররাহ মাদ্রাসা স্থাপন করেন। এ ছাড়া মসজিদে নববী (৬২২ খ্রি.) এবং মদীনার আরও ৯টি মসজিদ শিক্ষায়তন হিসেবে ব্যবহূত হয়। খলিফাদের মধ্যে হযরত ওমর (রা.) সিরিয়ায় ও হযরত আলী (রা.) বসরা ও কুফায় বৃহৎ দুটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। উমাইয়া যুগে দেশের বৃহদায়তন মসজিদগুলি মাদ্রাসারূপে ব্যবহূত হতো। আববাসীয় বংশের শাসকগণ মাদ্রাসা শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তাঁদের অনেকেই মসজিদ কেন্দ্রিক মাদ্রাসা নির্মাণ করা ছাড়াও আলাদা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময় মসজিদে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষাদান বাধ্যতামূলক ছিল।


পাবনা জেলার আমিন পুর থানার সাগরকান্দি ইউনিয়নে
তেমনি একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করেছে
এতিম অসহায় দুস্থ মানুষের জন্য। এর নাম করন করা হয় সাগরকান্দি কাসেমুল উলুম মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং।
এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০০ইং সালে।এটি পরিচালনা কমিটি তে আছেন লোকমান মাস্টার ও প্রধান শিক্ষক হিসেবে আসছেন মোঃ তালহা।
মোট জমির আয়তন ৩৪ শতাংশ। জমির মালিক ছিলেন মোঃনুরু কাজী।মোট ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা ২০০জন।এখানে আলাদা আলাদা ক্লাস নেওয়া হয়। ছাত্র দের আলাদা ছাত্রীদের আলাদা। আবাসিক অনাবাসিক সুযোগ সুবিধা আছে। এই অসহায় শিশু দেরকে তিন বেলা খাবার দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক এর সাথে কথা বললে সে এই আমার দেশ কে বলেন, এখানে শুধু আরবিই সেখানো হয় না বাংলা, ইংরেজিও সেখানো হই।সে আরো বলেন আমাদের এখানে নতুন ঘর নিরমান হচ্ছে আরো অনেক এতিম শিশু অবহেলিত শিশু আসবে তাদেরকে আমরা মানুষের মতো মানুষ বানাবো। আল্লাহুর রাস্তায় কাজ করবে।তাই সকল দেশের মানুষের কাছে বলছি আপনারা সবাই এই এতিম শিশু অসহায় বাচ্চাদের পাশে একটু সাহায্যর হাত বারিয়ে দিন।

আরবি ‘কওমুন’ শব্দ থেকে ‘কওমী’ শব্দের উৎপত্তি। কওমী শব্দের অর্থ হলো জাতীয়। তাই কওমী মাদ্রাসার যথার্থ অর্থ হলো জাতীয় মাদ্রাসা বা জাতীয় শিক্ষায়তন। কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাকে কেন্দ্র করে চারটি ধারা প্রচলিত রয়েছে: (ক) কিতাব বিভাগ বা দরসিয়াত বিভাগ, (খ) মক্তব বিভাগ, (গ) সহীহ কুরআন শিক্ষা ও কিরাত বিভাগ, এবং (ঘ) হিফ্জুল কুরআন বিভাগ। সরকারি সাহায্য ও প্রভাবমুক্ত এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত মাদ্রাসাই কওমী মাদ্রাসা। দরসে নিযামি শিক্ষাক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষাদান করা হয় বলে এগুলিকে দরসে নিযামি মাদ্রাসা নামেও আখ্যায়িত করা হয়।
হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রহ.), মওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী (রহ.), মওলানা কাসেম নানুতুবী (রহ.) প্রমুখ আলেম জনগণের সহযোগিতায় ১৮৬৬ সালে প্রথমে ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওবন্দে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা এবং ১৮৬৭ সালে সাহারানপুরে মাজাহিরে উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।
এ দেওবন্দ মাদ্রাসাই বাংলাদেশে কওমী মাদ্রাসার উৎস। ১৮৯৯ সালে এ মাদ্রাসার আদলে চট্টগ্রাম দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এদেশে কওমী মাদ্রাসার সূচনা ও বিকাশ ঘটে। এজন্য এ মাদ্রাসাকে উম্মুল মাদারিস বা মাদ্রাসা সমূহের জননী বলা হয়। মোল্লা কুতুবউদ্দীন শহীদ (মৃ. ১৭১১ খ্রি.) উপমহাদেশে প্রচলিত দরসে নিযামিয়ার উদ্ভাবক হলেও তাঁর পুত্র মোল্লা নিযামুদ্দীনের (মৃ. ১৭৪৮ খ্রি.) সময় এ শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি ও প্রসার লাভ করে এবং তা দরসে নিযামিয়া নামে অভিহিত হয়।
বর্তমান বাংলাদেশে প্রচলিত কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা দুটি পর্যায়ে বিভক্ত: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা এবং উচ্চ শিক্ষা। দুটি পর্যায়ে ৬টি স্তর এবং এ ৬টি স্তরে ১৬টি শ্রেণি রয়েছে। আল্ মারহালাতুল ইবতিদায়িয়্যা বা প্রথম স্তরে আওয়াল, ছানী, ছালেছ, রাবে ও খামেছ এ ৫টি শ্রেণি রয়েছে। আল-মারহালাতুল মুতাওয়াস্সিতা বা দ্বিতীয় স্তরে আওয়াল, ছানী ও ছালেছ এ ৩টি শ্রেণি রয়েছে। আল-মারহালাতুছ ছানুবিয়্যাহ্ আল-আ’ম্মাহ্ বা তৃতীয় স্তরে আস সানাতুল উলা ও আস সানাতুছ-ছানীয়া এ দুটি শ্রেণি রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে ৩টি স্তর এবং ৬টি শ্রেণি। আল-মারহালা সানুবিয়্যাহ্ উ’ল্ইয়া বা প্রথম স্তরে রয়েছে আসসানাতুল-উলা ও আস সানাতুছ-ছানীয়া এ দুটি শ্রেণি। মারহালাতুল-ফযীলত (স্নাতক) বা দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে আসসানাতুল-উলা ও আসসানাতুছ-ছানীয়া এ দুটি শ্রেণি। মারহালাতুত-তাক্মীল (স্নাতকোত্তর) বা তৃতীয় স্তরে আসসানাতুল-উলা বা দাওরায়ে-হাদিস, আসসানাতুছ-ছানীয়া বা তাক্মীল ফিত্-তাখাস্ছুছ এ দুটি শ্রেণি রয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রায় শতভাগ কওমী মাদ্রাসাতে এ স্তরের কোর্স ১ বছরে দাওরায়ে হাদিস পর্যায়ে সম্পন্ন করা হয়। দ্বিতীয় বর্ষের কোর্স সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।


১৯৭৮ সালে দরসে নিযামি মাদ্রাসাগুলি পরিচালনার জন্য সর্বপ্রথম বিফাকুল মাদারিস নামে বেসরকারি কওমী মাদ্রাসা বোর্ড গঠিত হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রামের পটিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রিক ইত্তেহাদুল মাদারিস, সিলেটের আজাদ দ্বীনি এদারায়ে তা’লীম বাংলাদেশ, বগুড়ার জামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রিক তানযীমুল মাদারিস নামে এবং ফরিদপুরের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসা কেন্দ্রিক বিফাকুল মাদারিসসহ আঞ্চলিক ভিত্তিতে আরও ১১ টি পৃথক কওমী মাদ্রাসা বোর্ড গড়ে উঠেছে।
১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সারাদেশে বিফাকুল মাদারিস-এর অধীনে ২,০৪৩টি মাদ্রাসা কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে নিবন্ধিত হয়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ১০ হাজারের অধিক কওমী মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। তাক্মিল বা দাওরায়ে-হাদিস (স্নাতকোত্তর) পর্যায়ের প্রায় আড়াই শত এবং মহিলা মাদ্রাসা রয়েছে অর্ধশত।