খোরশেদ আলম, সাভারঃ প্রতিনিধিঃ লবণের কেজি দুই’শ টাকা হবে হঠাৎ এমন গুজবে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় লবণ কেনার হিড়িক পড়েছে। এসময় বিভিন্ন পাইকারী ও খুচরা দোকানে ক্রেতাদেরকে লাইন দিয়ে ৫-১০ কেজি পর্যন্ত লবন কিনতে দেখা গেছে। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরাও ক্রেতাদের কাছে চড়া দামে লবণ বিক্রি শুরু করেছ। দাম বৃদ্ধির ঘটনায় কিছু কিছু এলাকায় ব্যবসায়ীদের সাথে সাধারন ক্রেতাদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।

লবণের বাজারে অস্থিরতা ঠেকাতে সাভারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য পৃথক চারটি টিম কাজ শুরু করেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সহকারী কমিশনার ভূমি (আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদের নেতৃত্বে আশুলিয়ার বাইপাইলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় শরিফ স্টোর, সবুজ বাণিজ্যালয় ও ভাই ভাই স্টোর নামে তিনটি দোকানকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি বেশি দামে কেউ লবণ বিক্রি করলে বা দাম চাইলে ক্রেতাদেরকে সংশ্লিষ্ট থানা ও হট লাইন নম্বরে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।

সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পারভেজুর রহমান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহফুজ আহম্মেদও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মাঠে নামেন। এসময় সাভারের নামা বাজার, উলাইল, হেমায়েতপুর ও আমিনবাজার এলাকায় বাড়তি দামে লবন বিক্রির দায়ে ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে কাড়াদন্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়।

এছাড়া সাভার নামাবাজার এলাকায় অতিরিক্ত মূল্যে লবণ বিক্রির না করতে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে মাইকিং করেন সাভার মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) জাকারিয়া হোসেন।

এদিকে দাম নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য ঢাকার ধামরাইয়ে মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে সকলকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পৌর মেয়র আলহাজ¦ গোলাম কবির মোল্লা।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বড় মসজিদের মাইকে জরুরি ঘোষণায় গোলাম কবীর মোল্লা বলেন, আমি মেয়র হিসেবে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি লবণের দাম বৃদ্ধির গুজবে কান দেবেন না। দেশে পর্যাপ্ত পরিমান লবন উৎপাদন ও মজুদ রয়েছে। বিদেশ থেকে কোন লবন আনার প্রয়োজন হয় না। গুজব ছড়িয়ে পড়ার কারণে অনেকে দাম বাড়িয়ে নিচ্ছেন, এই গুজবে কেউ কান দেবেন না।