ময়মনসিংহ থেকে মোহাম্মদ হজরত আলীঃ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সাবেক সিএ মোঃ ইয়াকুব আলী কর্র্তৃক সরকারী টোল চালান ট্যাম্পারিং এর মাধ্যমে রাজস্ব খাতের ১ কোটি ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়। ইতিপূর্বে এ বিষয়ে একাধিক টিম অনুসন্ধান করে। অবশেষে গত ১৩/১০/২০১৯ বাদী মোঃ আইয়ুব খানকে দুর্নীতি দমন কমিশন ঢাকায় তলব করে শুনানী করেন দুদক। শুনানী শেষে পুনঃতদন্তের আদেশ দিয়ে দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ ফারুক আহম্মেদকে দায়িত¦ দেন কমিশন। বিবরণে জানাযায় মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের ষ্টেনো টাইপিষ্ট (সিএ) মোঃ ইয়াকুব আলী মুক্তাগাছার স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দার ভূঁয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ষ্টেনো টাইপিষ্ট চাকুরী নেন। চাকুরীতে যোগদানের কিছুদিন জামালপুরে চাকুরী করে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া ও মুক্তাগাছায় দীর্ঘসময় চাকুরী করে বর্তমানে ত্রিশালে কর্মরত রয়েছেন।

চাকুরী সময়কালীন সময় একটানা ১১বছর মুক্তাগাছা উপজেলায় চাকুরীর সুবাদে তিনি দুর্নীতির আখরায় পরিণত হন। ১৪১৬-১৪২০বাংলা সন পাঁচ বৎসরের সরকারী রাজস্ব খাতের টাকা সরকারী কোষাগারে জমা না দিয়ে টাকার সংখ্যা ট্রেজারী চালান টেম্পারিং এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত করেন। বিষয়টি ধরা পরার পর দুদকে অভিযোগ করেন মুক্তাগাছা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ সভাপতি মোঃ আইয়ুব খান। অভিযোগে জানাযায় ১৪১৬- ১৪২০ বাংলা সন ৫ বছরে ১৭টি ট্রেজারী চালানের টাকার অংক টেম্পারিং করে ১ কোটি ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪৬ টাকা আত্মসাত করেন। অভিযোগটি দুদক আমলে নিয়ে অনুসন্ধান করার জন্য সমন্বিত জেলা কার্যালয় ময়মনসিংহর সহকারীপরিচালক নুরে আলমকে দায়িত্ব দেয়া হয়। অভিযোগকারী আইয়ুব খান কর্তৃক সংযুক্ত প্রমানাদি মুক্তাগাছা ইউএনও অফিস থেকে গায়েব হয়ে যাওয়ায় অনুসন্ধানে ফলাফল পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে কমিশন থেকে সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমকে দায়িত্ব দেয়া হলে তিনিও দলিল পত্রাদি গায়েব হওয়ার কারণে তদন্তে অগ্রগতি করতে পারেননি। পরিশেষে গত ১৩/১০/২০১৯ তারিখ দুর্নীতি দমন কমিশন বাদী আইয়ুব খানকে ঢাকায় তলব করে শুনানী করেন এবং নথি পুনঃতদন্তের আদেশ দিয়ে ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফারুক আহম্মেদকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেন। বাদী জানান, সরকারী টাকা ট্রেজারী চালান টেম্পারিং করে আত্মসাত করেছে। রেজিস্টার/ক্যাশ এর টাকার অংক এবং ব্যাংক হিসাবে অনুসন্ধান করলে রহস্য উদঘাটনে সহায়ক হবে। তা ছাড়া সরকারী হাট-বাজার ইজারার কাগজ যে টাকা হাট-বাজার দেয়া হয়েছে। সে টাকা বছর ওয়ারী রাজস্ব খাতে ভ্যাট/উৎস করসহ অন্যান্য খাতে জমার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাবের সাথে তুলনা করলেই রহস্য উদঘাটন হবে। এ ব্যপারে তিনি জানান তদন্ত কর্মকর্তা আন্তরিক ভাবে কাজ করলে আত্মসাতের বিষয়টি উদঘাটন করে দোষি ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা সহজ হবে।