নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ছিল আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনের প্রথমম দিন। আগামীকাল ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দি্‌তীয অধিবেশন। আর এ অধিবেশনে নির্ধারিত হবে কে হচ্ছেন আওয়াামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদেরই শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকবেন। এনিয়ে তিনি সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলেও একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের কোন কোন নেতা বলছেন, এখন সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শেষ কথা বলে কিছু নেই। যেকোন সময় পরিস্থিতি পাল্টাতে সময় লাগবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ওবায়দুল কাদের নিশ্চিত হলেও এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক হাল ছাড়েননি। ঢাকা শহরে কাউন্সিল অধিবেশন উপলক্ষে যে ব্যানার ফেস্টুন লাগানো হয়েছে সেখানে অনেক জায়গাতেই আব্দুর রাজ্জাকের ছবি শোভা পাচ্ছে। আব্দুর রাজ্জাকের অনুসারীরা মনে করছে ওবায়দুল কাদের দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শেষ পর্যন্ত নানা হিসেব নিকেশে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে। যেই সমস্ত কারণে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে;

প্রথমত ওবায়দুল কাদেরের চাপ। যেহেতু তিনি একাধানে সেতুমন্ত্রী এবং দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন সেজন্য তার ওপর চাপ পড়ছে এবং সেই কারণে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত হয়তো দলে একজন সার্বক্ষণিক সাধারণ সম্পাদক চাইবেন এবং ওবায়দুল কাদের মন্ত্রীত্ব ছেড়ে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার ব্যাপারে তেমন আগ্রহী নন। আর সে কারণেই শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাউকে চান সেক্ষত্রে আব্দুর রাজ্জাক এগিয়ে থাকবেন বলে অনেকে মনে করছেন।

দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক সময়ের শুদ্ধি অভিযান এবং দলের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সভাপতির দৃঢ় অবস্থান সেই ধারায় যদি কাউন্সিলে নেতৃত্বের নির্বাচন করা হয় সেক্ষেত্রে আব্দুর রাজ্জাক এগিয়ে থাকবেন বলে অনেকে মনে করছেন। কারণ ওবায়দুল কাদেরের নিজস্ব একটি সিন্ডিকেট আওয়ামী লীগে রয়েছে এবং এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহলে কথাবার্তা হয়। অবশ্য এটাকে অনেকে সিন্ডিকেট বলতে রাজী নন, তাঁরা মনে করেন, ওবায়দুল কাদের যেহেতু ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন এবং এখন আওয়ামী লীগের সারাদেশ জুড়ে নেতৃত্বের একটা বড় অংশ প্রাক্তন ছাত্রলীগারদের হাতে। কাজেই সেই হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের ব্যপ্তি সারাদেশ জুড়ে রয়েছে, এটাকে সিন্ডিকেট বলা যায় না।

তৃতীয়ত যে বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটা হচ্ছে ওবায়দুল কাদেরের অতীত ব্যবহারের কারণে পাবলিক ইমেজ আগের মতো নেই। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানারকম কতাবার্তা হয়। এজন্য আওয়ামী লীগ একজন ক্লিন ইমেজের এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য সাধারণ সম্পাদকের দিকে ঝুঁকলেও ঝুঁকতে পারেন। সেটা যদি ঝুঁকেন তাহলে শেষ পর্যন্ত ড. আব্দুর রাজ্জাক এগিয়ে যেতে পারেন। তবে সবকিছুর বাইরে যেটা ভাবা হচ্ছে, ওবায়দুল কাদের এবং আব্দুর রাজ্জাক দুইজনই শেখ হাসিনার আস্থাভাজন।

শেষ পর্যন্ত ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকে সাধারণ সম্পাদকের পদ ড. আব্দুর রাজ্জাকের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে বেশি ঝুঁকি নিতে হবে না বলেই আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ মনে করছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ সব পদেই পূর্ব নির্ধারিত বলে কিছু থাকে না। এ প্রসঙ্গে বলা যায়, বিভিন্ন সময়ে কাউন্সিলে নাটকীয় ভাবে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। ১৯৯৪ সালে জিল্লুর রহমানের সাধারণ সম্পাদক হওয়াকে অনেকে উদাহরণ দিয়ে থাকেন।