প্রতি বছর ঢাকার মাঠে ফুটবল খেলেন প্রায় অর্ধশতাধিক বিদেশি। এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকার ফুটবলারদের সমাবেশ ঘটে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে। তাই ঢাকার মাঠে স্থানীয়দের চেয়ে বিদেশিদের দাপট থাকে বেশি। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। এবারের মৌসুম শুরুর টুর্নামেন্ট ফেডারেশন কাপের দিকে চোখ রাখলেই তা স্পষ্ট। স্থানীয়দের চেয়ে বেশি গোল বিদেশিদেরই।

স্বাধীনতা কাপ, ফেডারেশন কাপ কিংবা প্রিমিয়ার লিগে প্রায় প্রত্যেক বছরই গোলদাতাদের শীর্ষে থাকেন বিদেশি ফরোয়ার্ডরা। স্থানীয়রা যেখানে অনেকটাই নিষ্প্রভ। নিকট অতীতে ফেডারেশন কাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় সবাই বিদেশি ফরোয়ার্ড। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ফেডারেশন কাপে ছয় গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতেন চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালের হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড ওয়েডসন আনসেলমি। পরের বছর চার গোল করে গোল্ডেন বুট নিয়ে যান রানার্সআপ আরামবাগ ক্রীড়া চক্রের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড

কেস্টার একন। ২০১৭ সালে ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনীর আরেক নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এমেকা ডার্লিংটনের গোলসংখ্যা ছিল মাত্র তিনটি। পরের বছর দলকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি গোল্ডেন বুট জেতেন ঢাকা আবাহনীর নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে সিজোবা।

এবারও সেরার দৌড়ে বিদেশিরাই এগিয়ে। এবারের ফেডারেশন কাপে ৫১টি গোল হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশিরা করেছেন ৩৪টি। আর স্থানীয় ফুটবলাররা ১৭টি। তবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ঢাকা আবাহনীর সানডে সিজোবা কিংবা কারভেন্স বেলফোর্ট নেই। সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন পুলিশের নতুন রিক্রুট মার্কিন ফরোয়ার্ড সিডনি রিভেরা। তার গোলসংখ্যা চারটি।

তিন গোল করে রিভেরার পেছনে রয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের কোস্টারিকান ফরোয়ার্ড দানিয়েল কলিন্দ্রেস এবং আবাহনীর হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড কারভেন্স বেলফোর্ট। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ঢাকা আবাহনী এবং সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে পুলিশ। ফাইনালে বসুন্ধরার কলিন্দ্রেস কিংবা আর্জেন্টিনার নিকোলাস দেলমন্তে সুযোগটা নিতে পারতেন। যদিও কলিন্দ্রেসের দুই গোলে বসুন্ধরা ২-১ ব্যবধানে রহমতগঞ্জকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফেডারেশন কাপে। দুই গোল করা সত্ত্বেও টুর্নামেন্টে তার গোল হল মোটে তিনটি। বছরের পর বছর বিদেশিদের দাপটে হারিয়েই যাচ্ছেন দেশি স্ট্রাইকাররা।