বল থেমে এলো, স্পিনাররা পেলেন টার্ন ও বাউন্স। গিয়েই শট খেলা সহজ নয়। বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানই সংগ্রাম করলেন রান করতে। এমন উইকেটে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি করলেন দাভিদ মালান। ক্রিজে গিয়েই ঝড় তুললেন সৌম্য সরকার। সিলেট থান্ডারের বিপক্ষে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে এনে দিলেন দারুণ জয়। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবারের প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতেছে কুমিল্লা। ১৪২ রানের লক্ষ্য পাঁচ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে দলটি।
হার দিয়েই বঙ্গবন্ধু বিপিএল শেষ হলো সিলেটের। ১২ ম্যাচে কেবল একটি জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থেকে আসর শেষ করল দলটি। বিপিএলের ইতিহাসে কোনো দলের এটাই সবচেয়ে বাজে ফল।

সিলেটের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের সবাই যান দুই অঙ্কে। কেউই পারেননি নিজের ইনিংস খুব একটা বড় করতে। ২০ এর বেশি বল খেলা আব্দুল মজিদ, আন্দ্রে ফ্লেচার ও মোহাম্মদ মিঠুন পারেননি দ্রুত রান তুলতে। জনসন চার্লস ও জিবন মেন্ডিসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পরও নিজেদের শেষ ইনিংসে সিলেট করতে পারে কেবল ১৪১ রান।

এক সময়ে সমীকরণ বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল কুমিল্লার জন্য। সৌম্যর বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ঠিকই পথ খুঁজে নেয় দলটি। ১০ ম্যাচে পঞ্চম জয়ে টিকিয়ে রেখেছে শেষ চারের আশা।

পাওয়ার প্লেতে অধিনায়ক ফ্লেচারকে হারিয়ে ৩২ রান তুলতে পারে সবার আগে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া সিলেট। চার্লস ক্রিজে যাওয়ার পর কিছুটা বাড়ে রানের গতি। বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানকে বেশিদূর যেতে দেননি আল আমিন হোসেন।

সময়ের দাবি মেটাতে পারেননি মিঠুন। মন্থর ব্যাটিংয়ে ১৮ রান করতে ২৫ বল খেলেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। মজিদও পারেননি রানের গতিতে দম দিতে। শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে এই ওপেনার ৪০ বলে করেন কেবল ৪৫ রান। শেষের দিকে ১১ বলে ২৩ রানের ঝড়ো ইনিংসে রানের গতি কিছুটা বাড়ান মেন্ডিস।
রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি কুমিল্লার। দ্বিতীয় ওভারে এলবিডব্লিউর রিভিউ নিয়ে ফারদিন হাসানকে ফেরান নাঈম হাসান। পরের ওভারে স্বপ্নের এক ডেলিভারিতে উপুল থারাঙ্গাকে বোল্ড করে দেন এই অফ স্পিনার।

মিডল স্টাম্পে পড়ে স্পিন করে বেরিয়ে যাওয়া বল পা বাড়িয়ে খেলতে চেয়েছিলেন লঙ্কান বাঁহাতি ওপেনার। বলের নাগাল পাননি, আঘাত হানে অফ স্টাম্পের ওপরের অংশে।

জোড়া উইকেটের ধাক্কা সামাল দিতে সাবধানী ব্যাটিং করেন মালান ও প্রমোশন পেয়ে চারে নামা মাহিদুল ইসলাম। পাওয়ার প্লেতে ৬ ওভারে কুমিল্লা তোলে কেবল ১৬ রান। নাঈমকে ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলে একই চেষ্টা করতে গিয়ে থামেন কিপার-ব্যাটসম্যান মাহিদুল।

ক্রিজে গিয়েই বোলারদের ওপর চড়াও হন সৌম্য। প্রথম ৩৪ বলে ২৫ রান করা মালানও পরে শট খেলা শুরু করেন। ৩৫তম বলে পান প্রথম বাউন্ডারির দেখা। পরে দেলোয়ার হোসেনকে হাঁকান পরপর দুই ছক্কা।

৪৯ বলে দুটি করে ছক্কা ও চারে ৫৮ রান করা মালানকে ফিরিয়ে ৭২ রানের জুটি ভাঙেন ইবাদত হোসেন। একটি করে ছক্কা ও ১৩ রান করে বিদায় নেন ডেভিড ভিসা।

ইয়াসির আলীকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন সৌম্য। চার্লসকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেওয়ার সঙ্গে পৌঁছান ফিফটিতে। তার ৩০ বলের দারুণ ইনিংসটি গড়া দুই ছক্কা ও ছয় চারে।

কঠিন সময়ে নেমে দায়িত্বশীল ইনিংসে পথ দেখানো মালান জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

সিলেট থান্ডার: ২০ ওভারে ১৪১/৫ (ফ্লেচার ২২, মজিদ ৪৫, চার্লস ২৬, মিঠুন ১৮, মেন্ডিস ২৩, মিলন ২*, সোহাগ ২*; সানজামুল ৩-০-৩০-০, আবু হায়দার ৩-০-১৮-০, মুজিব ৪-০-২৩-১, আল আমিন ৪-০-৩০-২, সৌম্য ২-০-৭-০, ভিসা ৪-০-৩১-২)

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স: ১৯.১ ওভারে ১৪২/১ (থারান্দা ৪, ফারদিন ১, মালান ৫৮, মাহিদুল ১১, সৌম্য ৫৩*, ভিসা ১৩, ইয়াসির ০*; ইবাদত ৪-০-২৬-১, নাঈ, ৪-০-২১-৩, সোহাগ ৪-০১৬-০, দেলোয়ার ৩-০-৩৫-০, চার্লস ৩.১-০-৩৪-১, অপু ১-০-৯-০)

ফল: কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ৫ উইকেটে জয়ী