জহির উদ্দিন মাহমুদ, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজার এলাকার হাজেরা বেগম, বয়স ৯৭ বছর। স্বামী মারা গেছেন কত বছর হলো সঠিক হিসাব মনে নেই তার। আনুমান করে বলেন, ৩০ বছর আগে হবে হয়তো। স্বামী মারা যাওয়ার পর হাজেরা মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

কিন্তু বয়সের ভারে অনেক আগেই কর্মশক্তি হারিয়েছেন তিনি। তাই অনেকটা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটে এই বৃদ্ধার। গত দুই বছর ধরে ওই বৃদ্ধা একটি ভাতা কার্ডের জন্য স্থানীয় মেম্বারের কাছে গেলেও তিনি শুধু কালক্ষেপন করছেন। এখনও তার কপালে জোটেনি বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড। বেঁচে থাকার জন্য তিনি একটি কার্ড চান।

বৃদ্ধা হাজেরার প্রশ্ন ‘আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবো? ওষুধ কেনা ও খেয়ে পরে বেঁচে থাকার জন্য শুধু একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড চাই।’

নব্বইউর্ধ্ব এই বৃদ্ধা আক্ষেপ করে জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেকটাই অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। মেয়েদের অজান্তে গত কয়েক মাস চিকিৎসা ও ওষুধ কেনার জন্য বাজারে এসে মানুষের ধারে ধারে হাত পাতি।ড ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (বোর্ড অফিস) ও মেম্বারদের কাছে অনেকবার ধর্না দিয়েছেন একটি বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য।

কিন্তু গত দুই বছর ধরে একটি ভাতা কার্ডের জন্য ওয়ার্ডের মেম্বারের কাছে আসা-যাওয়াই করলাম। তিনি শুধুই ঘুরাচ্ছেন। আর বলেন, আগামী বছর তালিকায় আপনার নাম অন্তর্ভূক্ত করে দিব।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, হাজেরার কোন ছেলে নেই। দুই মেয়ে তাও দিনমজুর রিক্সা চালক স্বামী সংসার নিয়ে মানবেতর জীবন চালাচ্ছে। সরকারি ভাবে বরাদ্দের চাল ছাড়া আর কিছুই পায় না। বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড হলেও অন্তত কিছুটা চলতে পারত হাজেরা।