জহির উদ্দিন মাহমুদ লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ শহরের বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে বিদ্যুত তার নেয়ার নাম করে নির্বিচারে গাছ কেটে সাবাড় করার অভিযোগে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কারন দর্শানোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রকল্পের স্থানীয় উপকারভোগী ও ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান ও উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম আজ সোমবার বেলা ২টায় সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা পেয়ে উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারকে কাজ বন্ধ রাখতে মৌখিকভাবে জানান।

স্থানীয় সূত্রে আরো সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রামগঞ্জ বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের পিলারে বিদ্যুতের টানার জন্য রাস্তার পাশের নারিকেল-সুপারী গাছসহ সরকারী বনায়নের বিভিন্ন জাতের গাছের মাথা কেটে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে রামগঞ্জ দক্ষিণ বাজার থেকে সোনাপুর হয়ে কাঞ্চনপুর পর্যন্ত ছোট-বড় সব ধরনের গাছ কাটা হচ্ছে।


প্রকল্পের উপকারভোগী আরমান হোসেন জয় জানান, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এভাবে নির্বিচারে গাছ কাটতে বাধা দিতে গেলে তারা আমাদেরকে আইনের ভয় দেখিয়ে আসছে। যেভাবে গাছ কাটা হচ্ছে তাতে করে স্থানীয় লোকজন অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে।

পৌর সোনাপুর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রকল্পের উপকারভোগী সভাপতি আবুল বাশার বাচ্চু জানান, গত কয়েকদিন থেকে আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি এভাবে গাছ নিধন বন্ধ রাখতে। বড় গাছের পাশাপাশি কয়েকমাস বয়সী গাছও কেটে ফেলা হচ্ছে বিদ্যুতের তার টানার নাম করে। কিছু বললেই তারা আইনের ভয় দেখিয়ে আমাদের কোনঠাসা করে রেখেছে। বা.প.বি বোর্ডের ঠিকাদার প্রতিনিধি আবদুল কাদেররের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে বার বার কল করে মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।


উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্বিচারে গাছ নিধন বন্ধ রাখতে বলেছি। যেনতেনভাবে গাছ কাটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ওরা ইচ্ছা করলে বিদ্যুতের পিলারগুলো রাস্তা থেকে আরো দুরে সরিয়ে নিতে পারে। কয়েকমাস বয়সী গাছের চারাও তারা অবাধে কেটে ফেলছে, যা খুব দুঃখজনক। প্রয়োজনে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

রামগঞ্জ উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) নুরুল আমিন ভূইয়া জানান, সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী গাছ কাটতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাছাড়া গাছ কাটা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আমাদের অধীনে নয়। তবে যেহেতু বিদ্যুতের দরকার সেক্ষেত্রে ফরেষ্ট অফিসারের সাথে কথা বলে অনুমতি নিতে হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান, আমরা বিদ্যুতও চাই-বনায়নও চাই। সরকার সবুজ বনায়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে আর এভাবে নির্বিচারে গাছ কাটা হবে, তা কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। প্রয়োজনে বিদ্যুতের পিলারগুলো রাস্তার পাশ থেকে আরো সরিয়ে নিতে হবে।