করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে ফান্ডের জন্য তিন ম্যাচ পাকিস্তান-ভারত ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন শোয়েব আখতার। সেই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের লিজেন্ড কপিল দেব। পাক কিংবদন্তির প্রস্তাবের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের টাকার দরকার নেই। ক্রিকেট খেলিয়ে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়া হবে।

গেল বুধবার পিটিআইকে শোয়েব জানিয়েছিলেন, ক্লোজডোর ক্রিকেট ম্যাচের কথা। রেখেছিলেন রুদ্ধদ্বার ইন্দো-পাক মহারণের প্রস্তাব। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় যা থেকে একসঙ্গে অর্থ তুলবে দুই চিরশত্রু দেশ। পরিপ্রেক্ষিতে তা অগ্রাহ্য করেছেন কপিল। এককথায় সেটি প্রত্যাখ্যান ও নাকচ করেছেন তিনি। টিম ইন্ডিয়াকে প্রথম ওডিআই বিশ্বকাপ এনে দেয়া অধিনায়ক বলেন, এ প্রস্তাব মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। শোয়েবের মত দেয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু ভারতের টাকা তোলার দরকার নেই।

তিনি বলেন, আমাদের তা যথেষ্ট রয়েছে। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো– দেশের প্রশাসন যেভাবে লড়াই করছে, সেটির পাশে থাকা। কপিল যোগ করেন, টিভিতে রাজনীতিকদের মধ্যে অনেক দোষারোপ পাল্টা দোষারোপের পালা দেখছি। সেটি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এ লড়াইয়ের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) মোটা অঙ্কের টাকা (৫১ কোটি) অনুদান দিয়েছে। আরও জোগাড়ের জায়গা রয়েছে। যে কারণে আমাদের টাকা তোলার দরকার নেই। শিগগির সংকটময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার স্থানে নেই। সেই অবস্থায় ক্রিকেট খেলিয়ে খেলোয়াড়দের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়ার কোনো যুক্তি আমাদের কাছে নেই।

কপিল বলেন, ঝুঁকি নেয়ার কোনো জায়গা নেই। তিন ম্যাচ থেকে আমরা কত টাকা তু‌লতে পারব? আমার মতে, আমাদের আগামী পাঁচ-ছয় মাস ক্রিকেট নিয়ে ভাবাই উচিত নয়।

সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডারের ভাষ্যমতে, ক্রিকেট আবার ফিরতে পারে যখন সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে। খেলা দেশের থেকে বড় নয়। এখন লক্ষ্য– তাদের দিকে খেয়াল রাখা, যারা সামনে থেকে যুদ্ধ করছে। যেমন ডাক্তার, নার্স, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী।

দেশের পরিস্থিতি নিয়ে যারা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত, তাদের জন্য গর্বিত কপিল। সদ্য যুক্তরাষ্ট্রকেও ওষুধ দিয়ে সাহায্য করেছে ভারত।

তিনি বলেন, অন্যদের সাহায্য করা আমাদের সংস্কৃতি। এ জন্য আমি গর্ববোধ করি। অন্যদের সহায়তা করে আমরা কৃতিত্ব নিই না। আমরা সেই দেশের নাগরিক, যারা অন্যদের থেকে সাহায্য নেয়ার চেয়ে তা বেশি করে থাকি।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি