বিশেষ প্রতিবেক

করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই অন্যরকম এক শেখ হাসিনাকে দেখছে এদেশের মানুষ। শেখ হাসিনা যে সাহসী তা নিয়ে কারোরই কোন সংশয় নেই। শেখ হাসিনা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এবং জনগণের প্রতি যে তাঁর অফুরন্ত ভালোবাসা রয়েছে এটা নিয়েও কারও কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এবার শেখ হাসিনা যেন ভিন্নরূপে এসেছেন। তিনি একাই সবকিছু সামলাচ্ছেন এবং করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে তিনি যেন মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছেন, সাহসের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষক লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করে একটি বক্তব্য রাখেন। সেই বক্তব্যে তিনি বলেছেন যে, আমরা হার মানবো না, মৃত্যু তো হবেই। মৃত্যু যেকোন সময় যেকোন কারণে হতে পারে। কিন্তু এজন্য ভীত হয়ে হার মানতে হবে?

করোনা সংক্রমণে সবাই যখন আতঙ্কিত, প্রতিদিন উদ্বিগ্ন এবং ভীত হয়ে পড়ছে। সেই সময়ে শেখ হাসিনা সাহসের মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই গভীর রাতে মারা গেলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী সেই সময় জাহাঙ্গীর কবির নানক আর বাহা উদ্দিন নাছিমকে নির্দেশ দিলেন যে, সিএমএইচে গিয়ে শেখ আবদুল্লাহর শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য। কিছুক্ষণ পরপর তিনি নির্দেশনা দিচ্ছিলেন এবং তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছিলেন। কিন্তু আবেগে তিনি খেই হারিয়ে ফেলেননি; বরং বারবার নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছিলেন।

এর পরের দিন ছিল জাতীয় সংসদের অধিবেশন এবং একের পর এক, একাধিক এমপির করোনা সংক্রমণের প্রেক্ষিতেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করছিলেন যে, শেখ হাসিনার সংসদে যাওয়া উচিত নয়। সেসময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক টেলিফোন করে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে অনুরোধ করেন যে, আপা, এখন পার্লামেন্টে না যাওয়াই ভালো। কারণ যেভাবে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এরকম অনুরোধ করেছেন বিপ্লব বড়ুয়াসহ আরও অনেকে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি যেন অন্য ধাতুতে গড়া। তিনি সবাইকে উপেক্ষা করে বলেছেন যে, আমাকে গ্রেনেড হামলায় কাবু করতে পারেনি, আমাকে ভয়ভীতি-হুমকি দিয়ে কেউ কাবু করতে পারেনি। আর এক অজানা ভাইরাসে কাবু হয়ে আমি ঘরে বসে থাকবো? সেটা হয়না। তিনি সংসদে গেছেন এবং সংসদে গিয়ে তিনি আবেগঘন এক ভাষণ দিয়েছেন।

এই করোনা সঙ্কটে আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে সবথেকে সচল এবং সবচেয়ে কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর ব্যক্তিটির নাম শেখ হাসিনা। তিনি প্রতিদিনই এক কর্মব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। করোনা মোকাবেলার বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া থেকে শুরু করে সংসদে যাওয়া, বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচীতে যোগদান করা, অর্থাৎ করোনাকালেও দম নেওয়ার ফুসরত নেই শেখ হাসিনার। আর এইকারনেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উদ্বিগ্ন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন যে, শেখ হাসিনা আমাদের আশাভরসার একমাত্র স্থল। শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবে না কেউই। শেখ হাসিনা আছে বলেই এখনো বাংলাদেশের মানুষ অভাব-অনটন কাটিয়ে উঠতে পারছে। শেখ হাসিনা আছে বলেই এখনো মানুষ মনে করছে যে করোনার বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে বাংলাদেশ জিতবেই। আর একারণেই শেখ হাসিনার সুস্থ থাকাটা অত্যন্ত জরুরী বলে মনে করছেন কর্মীরা।

আর সেই কর্মীরা কেউ কেউ মেসেজ করে, কেউ হোয়াটস অ্যাপে বা কেউ টেলিফোনে তাঁদের প্রিয় নেত্রীকে অনুরোধ করছেন যে, তিনি যেন একটু সাবধানে থাকেন, সংসদে যাওয়ার ক্ষেত্রে যেন সাবধানতা অবলম্বন করেন এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে, তিনি যেন তাঁর কর্মকাণ্ডগুলোকে নিয়ন্ত্রিত রাখেন।

কিন্তু শেখ হাসিনা সবসময়ই মনে করেন যে, তাঁর এই জীবনটা হলো এক্সটেনশন লাইফ। তিনি মনে করেন যে, ৭৫ এর ১৫ই আগস্টে তিনি মারা যেতে পারতেন, তিনি মনে করেন যে, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলাতেও তিনি মারা যেতে পারতেন এবং এই করোনার ভয়েও তিনি যে ভীত নন তা স্পষ্ট। আর এটাই হলো শেখ হাসিনার সবথেকে বড় ইতিবাচক দিক। কিন্তু নেতাকর্মীরা উদ্বিগ্ন, তাঁরা মনে করেন যে শেখ হাসিনার সুস্থ থাকার মানেই হলো বাংলাদেশের সুস্থ থাকা, শেখ হাসিনার ভালো থাকা মানেই এদেশের জনগণের ভালো থাকা।