বিনোদন ডেস্কঃ আত্মহত্যাই করেছেন বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সেটাই জানানো হয়েছে। এর পরেও সুশান্তের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হচ্ছে সুপারস্টার সালমান খানসহ দুই পরিচালক করন জোহর ও সঞ্জয় লীলা বানসালিকে। এমনকি সুশান্তের আত্মহত্যার ঘটনায় সালমান খান ও করণ জোহরসহ আটজনের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলাও করা হয়েছে। এদিকে সুশান্তের মৃত্যুরহস্যের তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। যেখানে ফেঁসে যাচ্ছে বলিউডের স্তম্ভ হিসাবে চিহ্নিত প্রযোজনা সংস্থা যশরাজ ফিল্মস।

ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে প্রকাশ, প্রযোজনা সংস্থা যশরাজ ফিল্মসের কর্তৃপক্ষকে জরুরি তলব করেছে মুম্বাই থানা পুলিশ। আর পুলিশের আদেশানুসারে সুশান্তের সঙ্গে করা চুক্তি সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র ইতিমধ্যে জমা দিয়েছে যশরাজ ফিল্মস। গতকাল মুম্বাই পুলিশের জোন-৯-এর ডিসিপি অভিষেক ত্রিমুখে আনন্দবাজারকে জানিয়েছেন, সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যাকাণ্ডে তদন্তকারী অফিসারকে আজ যশরাজ ফিল্মস চুক্তিপত্র জমা দিয়েছে। আমরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

কোন কারণে সুশান্ত আত্মহত্যায় যশরাজ ফিলসকে জরুরি তলব করা হলো এমন প্রশ্নে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে যশরাজ ফিল্মসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন সুশান্ত। চুক্তি অনুযায়ী এই ব্যানারে তার ৩টি ছবি করার কথা ছিল। তার মধ্যে ‘শুদ্ধ দেশি রোমান্স’ এবং ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ নামের দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু ‘পানি’ নামের তৃতীয় ছবিতে আর ডাকা হয়নি সুশান্তকে।

অথচ এই ছবিকেই হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে ১১ মাস সুশান্তকে অন্য ছবিতে সই করতে দেননি যশরাজ ফিল্মসের কর্ণধার আদিত্য চোপড়া। এই চুক্তির কারণেই দুটো বড় ছবি হাতছাড়া হয়েছিল সুশান্তের। যার মধ্যে একটি সঞ্জয় লীলা বানশালির ‘রাম লীলা’, অন্যটি ‘বেফিকরে’। এদের মধ্যে ‘রাম লীলা’ ব্যাপক সাড়া ফেলে। এর পর একই কারণে ৬ মাসের মধ্যে সাতটি ছবি হাতছাড়া হয় সুশান্তের।

মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, যশরাজ ফিলমসের সঙ্গে চুক্তিতে থাকায় সুশান্তকে আর কোনো ছবিতে অভিনয় করতে দেয়া হয়নি। অথচ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও বলিউড অভিনেতা রণবীর সিং একাধিক অন্য ছবিতে অভিনয়ের অনুমতি পেয়েছিলেন। যার বাস্তব উদাহরণ ‘রাম লীলা’। সে ছবিতে সুশান্তের বদলে রণবীরকে নেয়া হয়।

জানা গেছে, ‘পানি’ ছবিটি পরিচালনা করার কথা ছিল শেখর কাপূরের। সম্প্রতি তিনি টুইটে লেখেন, যশরাজ ফিল্ম ছবিটি নিয়ে আর না আগানোয় সুশান্ত মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এসব বিষয় খতিয়ে দেখার পরই মুম্বাই থানা পুলিশে জরুরি তলব করা হলো যশরাজ ফিলম প্রযোজনা সংস্থার।