দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রাণীরবন্দর বাজার এলাকায় পেট্রোলপাম্পের সামনে প্লাস্টিকের বস্তায় মানুষের গোঙানির আওয়াজ শুনতে পান এলাকাবাসী। কাছে গিয়ে কয়েকজন দেখতে পায়, প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে পঞ্চাশোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। কে বা কাহারা বস্তায় ভরে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গেছেন ওই বৃদ্ধকে।  ঘটনাটি ছিল গত ২৪জুন রোজ বুধবার রাতের। তাৎক্ষণিক বিষয়টি উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দল ‘”পাশে দাঁড়াও’” জানতে পেরে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও চিরিরবন্দর থানা পুলিশ সদস্যরা সেখানে হাজির হন ও ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পাশে দাঁড়াওয়ের আহ্বায়ক মাহফুজুল ইসলাম আসাদ বলেন, ‘অর্ধশতাধিক তরুণ “পাশে দাঁড়াও” স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য। ‘”আর্তমানবতার সেবায় একঝাঁক তরুণ’” এই স্লোগান বুকে ধারণ করে সেবামূলক স্বেচ্ছাশ্রমে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন তাঁরা। ’”পাশে দাঁড়াও” এর কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মাহফুজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ ঐ ব্যক্তির ঠিকানা খুঁজে বের করার জন্য আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছি”। অবশেষে দিনাজপুর পিবিআই এর ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে বস্তাবন্দী পরে থাকা সেই বৃদ্ধের ঠিকানা খুঁজে বের করতে সমর্থ হয়। ওই ভদ্রলোকটির, নাম- হারুন মিঞা, পিতা- আব্দুর রশিদ মিঞা, সদর, গাইবান্ধা। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মো. আজমল হক বলেন, ওই বৃদ্ধ মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি কথা বলতে ও কোনো কিছু খেতে পারছেন না। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “পাশে দাঁড়াও” মানুষের জন্য বিভিন্ন স্বেচ্ছাশ্রমমূলক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বাসাবাড়ির বাজার করা থেকে শুরু করে করোনা রোগীদের প্রয়োজনে যোগাযোগ রক্ষা করা, বাইরে থেকে আগতদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা, রোগীদের বিভিন্ন গ্রুপের রক্তের ব্যবস্থা করে দেওয়া, অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীকে হাসপাতালে আনা–নেওয়াসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে যাচ্ছেন পাশে দাঁড়াওয়ের সদস্যরা। আর্তমানবতার সেবায় একঝাঁক তরুণ’ স্লোগান বুকে ধারণ করে এই সেবামূলক স্বেচ্ছাশ্রমে তাঁরা উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। করোনার শুরু থেকে টিমের একজন সদস্য তাঁর দুটি মাইক্রোবাস অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করার জন্য বিনা মূল্যে দিয়েছেন। চলতি করোনা পরিস্থিতিতে অর্ধশতাধিক মানুষকে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, এ রকম সংকটময় মুহূর্তে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “পাশে দাঁড়াও” মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, এটি সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে একধরনের ভীতি কাজ করে। পাশে দাঁড়াওয়ের সদস্যরা করোনা রোগীদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। নমুনা সংগ্রহে সহযোগিতা করছেন। উপজেলার সাধারণ মানুষ এই স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে। হারুন মিঞা, পিতা- আব্দুর রশিদ মিঞা, সদর, গাইবান্ধা এর ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত গতকাল পিবিআই ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে রানীরবন্দরে বস্তাবন্দী পড়ে থাকা সেই বৃদ্ধের ঠিকানা খুঁজে বের করতে সমর্থ হয়।

 ইউএনও আয়েশা সিদ্দিকা আরও বলেন, বৃদ্ধটি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। তাঁকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করতে করতে পেরে আমি প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “পাশে দাঁড়াও” এর সকলকে অভিনন্দন জানাই।