মোস্তাফিজুর রহমান লালমনিরহাটপ্রতিনিধিঃ জেলার  হাতীবান্ধায় মাছ চুরিতে বাঁধা দেয়ায় বাহার উদ্দিন (৫০) নামে এক কৃষককে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় অভিযোগ দেয়ার ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নথিভূক্ত করেনি পুলিশ। এমনকি মামলা মিমাংসা করতে বাদিকে চাপ দিচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুব ইসলাম।গত শনিবার (১৩ জুন) রাতে আহতর ভাতিজা আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামী করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে এ ঘটনা নিয়ে দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকাসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে করে দৈনিক কালের কন্ঠে হাতীবান্ধা উপজেলাি প্রতিনিধি মাহমুদ হাসানকে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেয় ওই মামলায় অভিযুক্ত লাল মিয়ার ছেলে হায়দার আলী। আহত বাহার উদ্দিন উপজেলার ওই এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে এবং ওই এলাকায় মাছ চাষ করেন (কৃষক)।  অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার দক্ষিন জাওরানী এলাকার মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে লাল মিয়া (৫৫), চাঁন মিয়া (৪৫), আজিজুল ইসলাম সুরুজ (৪০), ফালান মিয়া (৩০) ও একই এলাকার লাল মিয়ার ছেলে হায়দার আলী (২৫) এবং আজিজুল ইসলাম সুরুজের ছেলে আপেল (২০)। জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিন জাওরানী এলাকায় স্থানীয় বাহার উদ্দিন, নূর আমিন ও কাজল মিয়া শেয়ারে মাছ চাষ করেন। অভিযুক্তরা প্রায় রাতের আধারে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ চুরি করে। এদিকে বুধবার (১০ জুন) ভোরে অভিযুক্তরা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু করলে বাহার উদ্দিন বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা বাহার উদ্দিনকে মারধর করেন। বাহার উদ্দিনের আত্মচিতকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লেকজন বাহার উদ্দিনেক উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় গত শনিবার (১৩ জুন) রাতে আহতর ভাতিজা আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামী করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনার ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নথিভূক্ত করেনি পুলিশ। এ দিকে এ ঘটনায় ১৫ জুন দৈনিক কালের কন্ঠ প্রত্রিকার অনলাইনে “হাতীবান্ধায় মাছ চুরি কৃষককে মারধর” এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এর আগে খবর প্রকাশের জন্য মোবাইল ফোনে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া হয়। এর কিছুক্ষন পর ফোন করে সাংবাদিক মাহমুদ হাসানকে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাহার উদ্দিন বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। যৌথ ভাবে মাছ চাষ করি। অভিযুক্তরা রাতের আধারে মাছ চুরি করে। এ সময় তাদের বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর করে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই’ আহতের ভাতিজা মামলার বাদী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মামলা আপোস মিমাংসা করতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহবুব ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা চাপ দিচ্ছেন। ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলাটি এখনো নথিভূক্ত করা হয়নি’। এ বিষয়ে  মামলার অভিযুক্ত লাল মিয়ার ছেলে হায়দার আলী বলেন, ‘মামলাটি আপোস মিমাংসার চেষ্ঠা চলছে। ভেলাগুড়ি চেয়ারম্যান বিষয়টি দেখছেন। সাংবাদিককে হুমকি দিয়েছিলো বলেও স্বীকার করেন তিনি। এ বিষয়ে সাংবাদিক মাহমুদ হাসান বলেন, ‘আমাকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় আমি একটি অভিযোগ করেছি’। এ বিষয়ে ওই অভিযোগের তন্দকারী কর্মকর্তা হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুব বলেন, ‘মামলটি এখনো নথিভূক্ত করা হয়নি। ওরা গরীব মানুষ তাই মিমাংসা করাই ভালো। রাজ্জাককে আসতে বলেছি মিমাংসা না হলে মামলাটি নথিভূক্ত করা হবে।