নাদিম আহমেদ অনিক,রাজশাহী বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান: বর্ষাকাল মানেই খাল বিলে থৈ থৈ পানি। টানা ভারি বৃষ্টিপাতে নদী নালা সহ খাল বিল গুলো ফিরে পায় নতুন এক টইটুম্বুর যৌবন। ঠিক তেমনি নওগাঁয় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে নদী, খাল, বিল ও বিভিন্ন ডোবাতে বাড়ছে পানি। পানির গতির সাথে নিম্নাঞ্চল এলাকার তিন ফসলি জমিগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় বাছড়ে মাছ শিকারীদের আনা গোনা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রবিবার জেলার রাণীনগর উপজেলার সর্ববৃহৎ সাপ্তাহিক হাট আবাদপুকুরে দুর দুরান্ত থেকে বাঁশ দিয়ে হাতের তৈরী খৈলসানি (বৃত্তি), ভাঁইড় (চোকা), চাই ও পলইসহ কারেন্ট জাল বেচা কেনার ধুম। দেশীয় মাছের স্বাদ আর মহামারীতে বাড়িতে বসে অবসর সময় কাটাতে গ্রামের খাল, বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ শীকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন সকল শ্রেনী ও পেশার মানুষেরা। সেই সাথে ওইসব মাছ ধরার সরঞ্জাম বিক্রির বাড়ছে ধুম। আর ওসকল ফাঁদ তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারীগর ও তাদের পরিবার। বাঁশ কেনা, বাঁশ কাটা থেকে শুরু করে শলাকা তৈরী ও ফাঁদ বোনাতে দিনের শুরু থেকে সন্ধা অবদি কেটে যাচ্ছেন তাদের সময়।

খৈলশুন ও ভাঁইড় কারীগর মাহাবুব আলম জানান, একটি ভালো জাতের বাঁশ থেকে কমপক্ষে ২/৩ টি খৈলশানি বানানো যায়। আর প্রতিটি খৈলশানির দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ও ভাঁইড় ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা মুল্যে বিক্রয় করছেন তিনি। চারিদিক পিোনতে থৈ থৈ করায় এই সময়ে তাকে খুব ব্যস্থ সময় পার করতে হ”্ছে তবে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে যথেষ্ট ভাবে সহযোগীতা করেন এসব তৈরীতে এবং বর্তমানে তার সংসার ও ভালো ভাবে চলছেন এসব তৈরীর টাকায়।

একজন ক্রেতার সাথে কথা বললে তিনি জানান, বর্ষাকালে এসব ফাঁদের দাম একটু বেশি সে কারণে শখের বসে মাছ শিকারের জন্য খৈলশানি কিনতে আসলে তাকে অনেক বেশি মূল্যে কিনতে হয়েছে। তবুও মাছ ধরতে অনেক ভালো লাগে। তাই ভালোলাগার কাছে এই মূল্য তেমন কিছুই নয়।

রাণীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহি ত্রিমোহনী হাট ইজাদার বেদারুল ইসলাম জানান, বছরের এই সময়গুলোতে এ সকল সরঞ্জামগুলোর দাম একটু বেশিই থাকে। তবে যেভাবে বৃষ্টিপাত বাড়ছে তাতে করে আরো এসবের চাহিদা বাড়তে পারেন বলে মনে করছেন তারা।