আব্দুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ সিরাজগঞ্জে চলতি বৌর মৌসুমে সরকারি ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে। গত মে মাসের ১২ তারিখ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু হলেও কৃষকরা খাদ্য গুদামে আসছে না ধান দিতে। ফলে এবার বেকায়দায় পড়েছেন খাদ্য বিভাগের লোকজন।খাদ্য বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা লটারীতে বাছাইকৃত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে আসার জন্য বার বার অনুরোধেও এ বছর সাড়া দিচ্ছেন না কৃষকরা। যদিও এই অভিযান চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
৬ জুলাই,সোমবার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পুরো জেলায় এবার ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫ হাজার ৮শ’ ৯০মে. টন। অথচ এ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ২শ’ ৬১ মে. টন। প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা ও প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪০ টাকা দামে উন্মুক্ত লটারিতে বিজয়ী তালিকাভুক্ত প্রত্যেক কৃষক সর্বোচ্চ এক টন করে ধান বিক্রয় করতে পারবেন।যে কারণে খাদ্য বিভাগের বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান চলছে ধীরগতিতে। জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর বোরো ফলন ভালো হওয়ায় দ্বিগুণ লক্ষ্যমাত্রা ধারণ করা হয়েছিল এবং মোটামুটি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিতও হয়েছে। তারপরও সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে এবার কৃষক বা চাষিরা তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।রায়গঞ্জ উপজেলার ধান-চাল ব্যবসায়ী আব্দুল মোত্তালেব বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ধানের দাম বেড়েছে। তা ছাড়া বাজারে চালের দামও কিছুটা বেশি। কৃষকেরা ঝামেলার কারণেই গুদামে ধান বিক্রিতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে কৃষকেরা হাটেও ধান বিক্রি করছেন না। তাঁরা বাড়িতে ধান মজুত করে রাখছেন। আমন ধান পাওয়ার আগে আগে তাঁরা মজুতকৃত ধান বিক্রি করবেন বলে অনেক কৃষকের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাহবুবুর রহমান খান বলছেন, কৃষকরা হাট বাজারে ধানের ভালো দাম পাচ্ছে। এ কারণে খাদ্যগুদামে ধান নিয়ে আসতে তাঁরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে সরকারের ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।আর চাষীরা বলছেন, এ বছর বাজারে ধানের দাম সরকারি দামের তুলনায় সামান্য কিছু কম। তাই দাম কিছু কম হলেও চাষিরা গুদামে ধান না দিয়ে বাজারেই বিক্রি করছে। রায়গঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর ধরে গুদামে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম এতো বেশি ছিল ফলে প্রকৃত চাষীরা কেউ ধান দিতে পারেনি। বিড়ম্বনার শিকার চাষীরা এই মৌসুমে আর গুদামমুখী হচ্ছেন না।
রায়গঞ্জ উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. শাহেদুল ইসলাম জানান, আমরা লটারীতে বাছাইকৃত কৃষকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে তাদেরকে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে ধান সরবরাহের জন্য বলা হলেও কৃষকরা কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। দেখা যায় ধান ব্যবসায়ীরা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান সংগ্রহ করছে। এতে কৃষক পরিবহন খরচ ও আর্দ্রতা যাচাইয়ের হয়রানির হাত থেকে বাঁচার জন্যই তারা গুদামমুখী হচ্ছে না। তারপরও ধীর গতিতে হলেও ধান সংগ্রহ অভিযান চলছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা খাদ্যগুদামের  (সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা) এস.এম শফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, কৃষকরা খাদ্যগুদামে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে এবার ধান বিক্রি করা নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই। এ অবস্থায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আমরা সব রকম চেষ্টা করছি।