নোয়াখালী প্রতিনিধি : করোনা যুদ্ধে এক সংগ্রামী জনপ্রতিনিধির নাম চেয়ারম্যান রহিম চৌধুরী। তিনি চলমান মহামারী কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সম্মুখ-সমর যোদ্ধা হিসেবে জীবনবাজি রেখে জনসেবা করে যাচ্ছেন।

মহামারি করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ আক্রান্ত এলাকা ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত নোয়াখালী সদর উপজেলার নিজ ইউনিয়ন ৪নং কাদির হানিফ ইউনিয়নে করোনা বিস্তাররোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, গণসচেতনতা সৃষ্টি, অসহায় ও সঙ্কটাপন্ন মানুষের ঘরে-ঘরে মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছে দেয়া, লক ডাউন বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখায় তিনি এখন বেশ আলোচিত ও প্রশংসিত। তার জনসেবা ও কর্মউদ্যোগের বেশ কিছু ছবি ফেইসবুকসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তিনি প্রশংসায় ভাসছেন। কেউ তাঁকে ‘জনগনের সেবক’, কেউ আবার ‘বাবার যোগ্য উত্তরসূরী’ কেউ বা আবার ‘সম্মুখ সমর যোদ্ধা’ হিসেবে খেতাব দিচ্ছেন।

ইউনিয়নের সিরাজ উদ্দিন পুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল আজিজ বলেন, কাদির হানিফ ইউনিয়ন শহরতলীর ইউনিয়ন। কিন্তু সে তুলনায় এই ইউনিয়নে পূর্বে তেমন কোন উন্নয়ন হয় নি। বহু রাস্তাঘাট কাচাঁ ছিল। বর্তমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। তাছাড়া ইউনিয়নবাসীর বিপদে-আপদে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে করোনারকালীন সময়ে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করছেন।

চেয়ারম্যান রহিম চৌধুরী নোয়াখালী সদর উপজেলার ০৪ নং কাদির হানিফ ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম আবদুল হালিম এই ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ছিলেন। বাবার অনুপ্রেরনায় রহিম চৌধুরীর পথ চলা। ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুরুক্ত হয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ছাত্রজীবন শেষ করে কর্মউদ্দেশ্যে প্রবাসে পাড়ি জমান। কিন্তু মনটা পড়ে থেকে দেশে। তাই দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রবাস জীবন ছেড়ে রাজনীতি ও মানুষের টানে দেশে চলে আসেন। দেশে এসে পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং নিজ ইউনিয়নবাসীর সেবা শুরু করেন। তিনি ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন পাশাপাশি ০৪ নং কাদির হানিফ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

একান্ত সাক্ষাৎকারে চেয়ারম্যান রহিম চৌধুরী বলেন, এই মহামারি করোনা মোকাবিলায় আমাদের প্রত্যেককে প্রত্যেকের জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে। এটি একটি যুদ্ধ। ১৯৭১ সালে আমরা যেমনি যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছি। এবারও আমরা এই অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হবো ইনশআল্লাহ। তাই এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। আমি আমার জায়গা থেকে আমার দায়িত্বটুকু পালন করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি আমার বাবার অনুপ্রেরণায় জনসেবার পথ বেঁচে নিয়েছি। ছোট বেলা থেকে দেখেছি আমার বাবা ইউনিয়নের গরীব অসহায় মানুষের পাশে দাড়িঁয়ে জনসেবা করেছেন। সে জন্য আমিও বাবাকে অনুসরণ করছি। আমি বিশ্বাস করি ইউনিয়নবাসী ভালো থাকলে আমিও ভালো থাকবো। তাই সদা-সর্বদা ইউনিয়নবাসীর পাশি আছি এবং থাকবো।

চেয়ারম্যান রহিম চৌধুরী আরো বলেন, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পূর্ব থেকেই ইউনিয়নবাসীর পাশে ছিলাম। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইউনিয়নবাসীর উন্নয়ন করার সুযোগ হয়েছে। আমার প্রিয় নেতা নোয়াখালী-০৪ আসনের মাননীয় এমপি একরামুল করিম চৌধুরী ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন এবং বর্তমান চেয়ারম্যান একেএম সামছুদ্দিন জেহানের আন্তরিক সহযোগিতায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানেও উন্নমূলক কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে। বিগত ৪ বছরে ইউনিয়নের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে রাস্তাঘাট-পুল-কালভাট নির্মাণ করেছি, দারিদ্র বিমোচনে বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতা, বয়স্ক ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা প্রদান, ভিজিডি কার্ডের চাল বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। আমি কতটুকু সফল বা ব্যর্থ হয়েছি সেটির বিচার ইউনিয়নবাসী করবে। ইনশআল্লাহ ভবিষ্যতেও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড অব্যহত থাকবে। এজন্য সকলের দোয়া কামনা করছি।