মোস্তাফিজুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ এবারের তিস্তার উজানে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার তিনবিঘা করিডর  দহগ্রাম ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধিতে   বন্যায় রাস্তা ভেঙ্গে প্রায় ৩০ টি   বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত ও  নদী তীরবর্তী এলাকার কমপক্ষে হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। হঠাৎ তিস্তার পানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অতিকষ্ঠে জীবনযাপন  করছে পানিবন্দী এসব পরিবার।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রোববার রাত থেকে হঠাৎ তিস্তার পানি বেড়ে নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয় এবং দহগ্রাম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সর্দার পাড়া এলাকায় একটি রাস্তা ভেঙ্গে যায়। প্রবল স্রোতের কারণে অন্তত ৩০ টি কাঁচা – পাকা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত এবং হাজার খানেক বাড়ি পানি প্লাবিত হয়।দহগ্রাম ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম বলেন আজ দুপুরে তিস্তার পানি হঠাৎ বেড়ে যায় এবং আমার ওয়ার্ডের একটি রাস্তা     ভেঙে প্রবল স্রোতের কারণে বেশ কয়েকটি বাড়ি ভেঙে যায়। এবং আমার ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দহগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন কে দেখা যায় তিনি পানিবন্দী প্রতিটি এলাকা ঘুরে মানুষের খোঁজ খবর নিচ্ছেন।হটাৎ এ বন্যা ও ক্ষতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন কয়েকদিন থেকেই তিস্তায় কমবেশি বন্যা চলছে। কিন্তু আজ দুপুর থেকে তিস্তার পানি অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে থাকে। ফলে ১ নং ওয়ার্ডের সর্দার পাড়ার একটি রাস্তা ও দহগ্রাম গুচ্ছগ্রামের রাস্তাটি বিকালের দিকে  ভেঙ্গে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত.  ১ নং ওয়ার্ডে। ওখানে প্রায় ৫০ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দহগ্রাম গুচ্ছগ্রামের রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ওখানকার মানুষগুলোর যাতায়াত বন্ধ হয়েছে। তারা নৌকায় চলাচল  করছে। তিস্তার পানি হঠাৎ   বাড়ায় দহগ্রাম ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে । মানুষজন অত্যন্ত কষ্টে রাত কাটাচ্ছে। আমি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১ নং ওয়ার্ডের প্রায়   ১০০ পরিবারকে শুকনো খাদ্যসামগ্রী দিয়েছি। আগামীকাল প্রয়োজনে আবারও ব্যবস্থা করবো। এবিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মশিউর রহমান বলেন,  দহগ্রামে বন্যার এবং ক্ষয়ক্ষতির খবর জানতে পেয়েই তাৎক্ষণিকভাবে পিআইও অফিসার উত্তম কুমার নন্দী কে  সরেজমিনে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য সেখানে পাঠিয়েছি। দহগ্রামে তিস্তার বন্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যারকে অবহিত করেছি।