নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালী জেলা পরিষদ প্রধান নিবাহী ড.মাহে আলম এবং প্রকৌশলী আব্দুর রহমান এর অনিয়ম আর দূর্ণীতিতে ক্ষুব্ধ অফিসের উর্ধ্বতন থেকে ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী ও ঠিকাদাররা। এলাকাবাসী জানায়, ড.মাহে আলম লক্ষীপুর কমল নগরের বাসিন্দা হয়ে এ আমলে এ ডি সি পদে ৩ বছর থেকে পুনরায় আবার জেলা পরিষদ নির্বাহী পদে যোগ দিয়ে আরো ৩ বছর বহাল তবিয়তে আছেন। একবার জেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে সাভার লোক প্রশাসন কেন্দ্রে বদলি হলেও উপর মহলে তদবির করে নোয়াখালী জেলা পরিষদ নির্বাহী পদে পুনরায় চলে আসেন। তিনি গোটা জেলা পরিষদকে জিম্মি করে রাখেন। নিয়োগ বানিজ্য, প্রজেক্ট পাশ, জায়গা লিজ, বিল পাশ, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানার অনুদানের বিল পাশ, ঠিকাদারদের কাজের বিল পাশ করতে দিতে হয় পারচেনটেজ।অনুসন্ধানে জানা গেছে তার অনিয়মের ফিরিস্তির মধ্যে মসজিদ, মাদ্রাসা, শ্মশান, অযুখানা, এতিমখানার অনুদানের চেক নিতে লাখে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়। বিভিন্ন প্রকল্প পাশ করাতে ব্রোকারের মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়। জেলা পরিষদের সরকারী টাকা সরকারী ব্যাংকে না রেখে ২% সুবিধা নেয়ার জন্য সুবর্ণচর ও সেনবাগে বেসরকারী ওয়ান ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকে টাকা এফডিআর করে রাখেন। জেলা পরিষদের জায়গা লিজ নিতে দিতে হয় টাকা। আবার এক জায়গা টাকার বিনিময়ে একাধিক ব্যক্তিকে লিজ দিতে দ্বিধা করেননা তিনি। গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান না হলে নানা অজুহাতে নবায়ন করেননা। বেগমগঞ্জের চৌরাস্তা ও সোনাইমুড়িতে ২টি মার্কেটের কাজ ব্যক্তিগতভাবে লাভবান না হওয়ায় এখনো কাজ শুরু করেননি। প্রকল্প স্থান পরিদর্শণ না করেও মাসে ৮/১০ হাজার টাকা ভ্রমন ভাতা উত্তোলন করেন। দিঘির উত্তর পাড়ে তার জন্য সংরক্তিত বাসা থাকলেও তিনি মাইজদি হাউজিং থাকেন এবং সরকারী গাড়ি পারিবারিক কাজে ব্যবহার করেন। গত বছর রামগতি উপজেলায় তার নিজ এলাকায় বাবার মৃত্যু বার্ষিকীর মেজবানীতে জেলা পরিষদের ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের দিয়ে বয়ের কাজ করান। তিনি ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের ঈদের দিন ছুটি না দিয়ে নিজ বাসায় কাজ করান। বিশেষ করে, কোরবানীর ঈদে। অফিসের ডিউটি বাদ দিয়ে বাসা পরিবর্তনের সময় তাদের দিয়ে কাজ করান। ভুয়া নাম দেখিয়ে রামগতির লোকদের নোয়াখালীর জন্য বরাদ্দের সরকারী অনুদান প্রদান করেন। প্রযুক্তি রোডে জেলা পরিষদের পুকুরে সরকারী টাকায় মাছ ফেলে নিজে ধরে মাছ নিয়ে যান। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে উচ্চমান সহকারী, একাউন্টেন্টসহ ৩জন লোককে তার পছন্দ মাপিক নিয়োগ দিতে চেষ্টা করেন। এটা ফাঁস হয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন অফিস ঘেরাও করে ভাংচুর করলে এ নিয়োগ বাতিল করতে বাধ্য হন। এখন পর্যন্ত সে নিয়োগ হয়নি। জেলা পরিষদের প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলী দূর্ণীতির মামলায় জেল খাটেন। কিন্তু একই বিলে সই করেও তিনি টাকার বিনিময়ে ছাড় পাওয়ার অভিযোগ আছে। প্রকৌশলী আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রধান নির্বাহী ড. মাহে আলমের অনিয়মের সহযোগী তিনি। এছাড়া কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এক ছাত্রলীগ নেতার ৩ প্রকল্পে ৫০ হাজার টাকা করে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে এখনো প্রজেক্ট পাশ করেননি। তিনি গত ৪/৫ মাস অফিসে আসেননা যদি নির্বাহী ও তার সুবিধা থাকে তাহলে আসে। মসজিদ,মাদ্রাসা,এতিমখানা, মন্দির ছোট প্রকল্পের ৭/১০ পারসেন এর জন্য ফাইল টেবিলে পড়ে থাকে। প্রকল্পের কমিটির লোকজন হয়রানির কারনে চেকের জন্য আর আসেনা। এভাবে গত কয়েক অর্থবছরে টাকা জমা রয়ে গেছে। লোকজন এনিয়ে নির্বাহীর নিকট অভিযোগ দিলে বাহানা দিয়ে পার করে দেন। তার কারনে ঠিকাদাররা কাজ করতে পারেননা। করলে বিলের জন্য মাসের পর মাস ঘুরাঘুরি করতে হয়। নির্বাহী ও প্রকৌশলীর অনিয়ম, হয়রানি, দূর্নীতির বিষয়ে জেলা পরিষদ মিটিংএ জোরালোভাবে উঠে আসলে নির্বাহী আর হবেনা বলে আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোন ফল পাওয়া যায়নি। জেলা পরিষদ প্রধান নিবাহী ড.মাহে আলম এবং প্রকৌশলী আব্দুর রহমান এর অনিয়ম আর দূর্ণীতির কথা ভয়ে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদাররা প্রকাশ্যে বলেননা। একজন ঠিকাদার বলেন, তিনি তার ঠিকাদারী জীবনের ৩৩ বছরে প্রায় ২০ জন নির্বাহী দেখেছেন, কিন্তু সব কাজে টাকা লেনদেনের রীতি আগে দেখেনি।তাদের এই দুর্নিতীর অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত দিয়েছেন। অবিলম্বে অনিয়ম ও দূর্ণীতি বন্ধের দাবী জানান তারা। না হয় জেলা পরিষদের সুনাম অক্ষুন্ন থাকবেনা নোয়াখালী জেলা পরিষদ অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়বে। প্রসঙ্গত : জেলা পরিষদের ক্যাশিয়ার তারেক রাতে অফিস করতেন ও জেলা পরিষদে ডাক বাংলায় মাদক সেবন করতেন। এক পর‌্যায়ে জেলা পরিষদের ১ কোটি টাকা চেকের মাধ্যমে অফিস সেন্ডিকেটের মাধ্যমে আত্বসাৎ করে বর্তমানে জেলে আছেন।