সৈয়দুর রহমান সৈয়দ- পাকুন্দিয়া  (কিশোরগন্জ) প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে সাংগঠনিক গতিহীন চলছে। দেড় যুগ ধরে চলছে ৯০ দিনের আহবায়ক কমিটি দিয়ে। উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলন না করার কারণে পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা আছে। তাঁরা বলেন দ্রুত উপজেলা থেকে পৌর, ইউনিয়ন সহ সকল ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করতে যাতে তৃনমূলকে প্রাধান্য দিয়ে গঠন করিলে দলীয় কার্যক্রমে ফিরে পাবে প্রান। 
অন্যদিকে প্রায় ৫ বছর ধরে বিএনপিও চলছে আহবায়ক কমিটি দিয়ে। নেতৃত্বের লড়াইয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্যে। ঘরোয়াভাবে দুই ভাগে চলছে দলীয় কর্মকান্ড। দলীয় নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনও জমাতে পারেনি সংগঠনটি। এ উপজেলায় এখন দলটির যেন দুরবস্থায়। দলটির একজন যুগ্নঅাহবায়ক কয়েক বছর আগে একটি জাতীয় পত্রিকায় বিএনপির সাথে কোন সম্পর্ক নেই বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়েই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগে যেতে মরিয়া, রাস্তার পাশে হাট-বাজারে আওয়ামীলীগের পক্ষে তাঁর কয়েক হাজার ব্যানার শোভা পাচ্ছে। খুঁজ খবর নিচ্ছেন আওয়ামীলীগের একাংশের কর্মিদের। 
পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে একাধিক নেতার বিরুদ্ধে পদ-বাণিজ্য, তদবির-বাণিজ্য, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অজুহাতে দলীয় নেতা-কর্মীদের থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।  উপজেলায় দলের স্থায়ী কোনো কার্যালয় না থাকায় পৃথক নেতার পৃথক কার্যালয়ে কর্মসূচি পালন হচ্ছে ঘরোয়া পরিসরে। আহবায়ক কমিটি ৯০ দিনের মধ্যেই সকল ইউনিয়নের কমিটি গঠন ও সম্মেলন করে পুর্নাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ থাকলেও দীর্ঘ ১৮ বছরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো সম্মেলন হয়নি। এ বছর স্হানীয় সাংসদ বর্ধিত সভার আয়োজন করেছিলেন,  উদ্দোগ নিয়ে ছিলেন উপজেলার তৃনমূল আওয়ামীলীগ কে ঢেলে সাজানোর। তখন উপজেলা আওয়ামীলীগ ফিরে পেয়েছিল হারিয়ে যাওয়া যৌবন সর্বত্রই আলোচনা ছিল ত্যাগীরাই দিবে নেত্রীত্ব কিন্তু করোনার কারনে আটকে গেছে কার্যক্রম। আহবায়ক কমিটির ৭১ সদস্যদের মধ্যে দুইজন যুগ্নঅাহবায়ক সহ মারা গেছেন ১৯ জন। একজন আওয়ামীলীগ থেকে পদত্যাগ না করে, বিএনপিতে যোগদান করে উপজেলা বিএনপির যুগ্নঅাহবায়ক হয়ে গেছেন। আবারো আওয়ামীলীগে যোগদানের জন্য মরিয়া। 
পৌর কমিটিরও সম্মেলন হচ্ছে না ১৭ বছর ধরে। পৌর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ মারা গেছেন কয়েক জন একই অবস্থা সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, সুবিধাবাদীদের দৌরাত্ম্যে এ উপজেলায় ত্যাগীরা বঞ্চিত হচ্ছে। ১২ বছর ক্ষমতায় দলটি তার পরেও কয়েক হাজার তৃনমূলের নেতাকর্মী রাজনৈতিক হামলা এবং মামলার স্বীকার হয়েছে। 
বিএনপির উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা হতাশায় রয়েছেন। অনেকে দল ছাড়ছেন, কেউ ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। গত ২০১৫ সালের ১২ই সেপ্টেম্বরে ১৩৭ বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি হয়। কিন্তু প্রায় ৫ বছরেও করা হয়নি পুর্নাঙ্গ কমিটি। কর্মীদের মতে, বিএনপির দুই গ্রুপের কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাডঃ জালাল উদ্দিন, যুগ্নঅাহবায়ক এফরান উদিন, আতিকুর রহমান মাসুদ সহ বেশিরভাগ নেতা। অন্য গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সদস্য সচিব ও চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন। তবে কয়েকজন নেতা  জানান, আমাদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা চলছে। আগামীর উপজেলা কমিটি গঠনের মাধ্যমে তৃণমূলের আশা- অাখাঙ্কার প্রতিফলন হবে। ত্যাগীরাই কমিটিতে স্থান পাবেন।