হালিম সৈকত,  কুমিল্লা  ।।গত ১০ জুলাই কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানাধীন সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাটেরা গ্রামের মৃত: জুলফু মিয়ার ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৩০) এর মস্তক বিহীন অবস্থায় একটি অজ্ঞাতনামা লাশ পুকুরের পশ্চিম পাড়ে বাঁশঝাড়ের নীচ থেকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ। ওই দিনই ব্রাহ্মণপাড়া থানায় ৩০২/২০১/৩৪ দ: বি: ধারায় মামলা রুজু করা হয়, যার মামলা নং-০৮। পরবর্তীতে মামলাটি পিবিআই এর শিডিউল ভুক্ত হওয়ায় গত ১৪ জুলাই পিবিআইতে অধিগ্রহন করা হয় এবং এর তদন্তভার এসআই মো: ইব্রাহিম এর নিকট অর্পন করা হয়। মামলাটি অধিগ্রহনের পর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বিপিএম (বার) পিপিএম এর নির্দেশনায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল ও মেন্যুয়াল তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে অভিযান করে মামলার মূল আসামী মো: জামাল হোসেন (৫০) কে গত ২০ জুলাই দুপুরে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই সূত্র ধরে মৃত দেহ উদ্ধারের মাত্র ১০ দিনের মাথায় মস্তক উদ্ধার করে বলে জানান কুমিল্লা জেলা পিবিআই পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান। মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা জেলা পিবিআই কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরো জানান, আসামী মো: জামাল হোসেনকে ১৬৪ ধারার জবানবন্দির জন্য আজই আদালতে প্রেরণ করা হবে। পুলিশ সুপার আরো জানান, আসামী জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় ইতিপূর্বে ৩টি চুরি ও ১টি মাদকের মামলা রয়েছে। হত্যাকান্ডের বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জামাল মাদক সংক্রান্ত বিষয় জড়িত আছে বলে জানিয়েছে এবং এ হত্যাকান্ডের সাথে আরো অন্যান্য ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করেন এই পিবিআই পুলিশ সুপার। উল্লেখ্য যে, গত ১০ জুলাই কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানাধীন সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাটেরা গ্রামের মৃত: জুলফু মিয়ার ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৩০) এর মস্তক বিহীন অবস্থায় একটি অজ্ঞাতনামা লাশ পুকুরের পশ্চিম পাড়ে বাঁশঝাড়ের নীচ থেকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ।আলোচিত এই হত্যাকান্ডে জড়িত গ্রেফতারকৃত আসামী জামাল হোসেনকে গ্রেফতারের পর তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে তার সহযোগী আসামীদের নিয়ে অজ্ঞাতনামা ভিকটিম (২৭) কে গলা কেটে খুন করে তার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে পার্শ্ববর্তী পুকুরের পশ্চিম পাড়ে বাঁশঝাড়ের নীচে ফেলে দেয়। আসামীর দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক পুলিশ পরিদর্শ মো: তৌহিদুল ইসলাম, মো: মতিউর রহমান, মো: হিলাল উদ্দিন আহমেদ, এসআই মো: ইব্রাহিম, মো: আমান উল্লাহ সরকার, মো: নজরুল ইসলাম সহ সঙ্গীয় ফোর্স গ্রেফতারকৃত আসামী সহ ২০ জুলাই বিকেলে অভিযান করে আসামীর দেখানো অজ্ঞাতনামা ভিকটিমের মাথা উদ্ধার করে। পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে ও ভিকটিমের পরিচয় সনাক্তের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।