খান নাজমুল হুসাইন সাতক্ষীরাঃ   দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকার পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি সাংবাদিক এস.এম মফিদুল ইসলামের উপর জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাটকেলঘাটা থানায় একটি মামলা হয়েছে যার মামলা নং- ১৩ তারিখ ২০.০৭.২০ । এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৯ টার দিকে সাংবাদিক মফিদুল ইসলাম তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি হতে বের হন। কুমিরা বাদামতলা সংলগ্ন বাড়ি হতে বের হয়ে রাস্তার উপর উঠলে পূর্ব হতে ওৎ পেতে থাকা মৃত ফজর আলী সরদারের পুত্র হাবিবুর রহমান হবি, হাবিবুর রহমানের স্ত্রী আসামী ফতেমা বেগম, মেয়ে হালিমা খাতুনের কাছে থাকা বাশের লাঠি, হাতুড়ি ইত্যাদি নিয়ে সাংবাদিক মফিদুলের উপর অতর্কিত হামলা করে। এসময় তাদের হাতে থাকা হাতুড়ি দিয়ে সাংবাদিকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যূপরি আঘাত করে এবং কামড়িয়ে রক্তাক্ত করে দেয়। মফিদুলের ডাক চিৎকারে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে মফিদুলের স্ত্রী কাজলকে  মারপিট ও শ্লীলতাহানি চেষ্টা করে ।

একপর্যায়ে সাংবাদিকের কাছে থাকা ব্যবসায়িক ৫০ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রী কাজলের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন টেনে ছিড়ে নেয়। পরে স্থানীয়রা মফিদুলকে উদ্ধার করে তালা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মফিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৩ জন বিবাদীর  নাম উল্লেখ পূর্বক পাটকেলঘাটা থানায় এজাহার দায়ের করেন।  স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, সাংবাদিক মফিদুল ইসলামের উপর হামলাকারী ফাতেমা বেগম তার বাড়ির সাথে সংযুক্ত চায়ের দোকানের আড়ালে গাজা, ফেন্সিডিল সহ নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রি করে আসছিল। তাকে বিভিন্ন সময় মফিদুল নিষেধ করলে উল্টো তাকে দেখে হুমকি দেয়।এদিকে সাংবাদিক মফিদুল ইসলামের উপর হামলার ঘটনা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক মহলের উপর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তারা আসামীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।এ বিষয়ে কুমিরা ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আলাউদ্দীন বলেন, এটা রীতিমতো পুরুষ নির্যাতনের শামিল। হামলাকারী ফতেমা অনেকটা ভয়ংকর প্রকৃতির। ইতোমধ্যে সে বেশ কয়েকবার আমাকেও নাজেহাল করে ছেড়েছে।কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আজিজুল ইসলাম বলেন, এই মহিলা ফতেমা ও ও তার স্বামী হাবিবুর অনেকটা অসামাজিক প্রকৃতির। প্রতিবন্ধী নাম করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করলেও সবকিছুই থেকে বঞ্চিত। সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।আহত সাংবাদিক মফিদুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রি করতে নিষেধ করা আজ জীবনের কাল হয়ে দাড়িয়েছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সুষ্ঠু বিচার চাই। এ বিষয়ে ফাতেমা ও হাবিবুরের সাথে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই নিমাই বলেন, আসামীদের গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্ঠা চলছে। পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী ওয়াহিদ মুর্শেদ বলেন, থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এর ব্যবস্থা নিবেন।