খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা  প্রতিনিধিঃ  তালার কাটবুনিয়ায় রাস্তার বেহালদশা দেখার কেউ নেই ? ভোট আসলে আমাদের  খোঁজে,এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন। ভোটের  পরে কেউ খোঁজ নেয় না। আমাদের যাতায়াতের রাস্তা নেই বলে চলে। কেউ অসুস্থ্য হলে হাসপাতালে নেওয়ার তেমন ব্যবস্থা নেই বলে চলে। এমন একটি দ্বীপের মধ্যে আমাদের বসবাস। রাস্তা মেরামতের নামে সরকারি বরাদ্দ আসলেও তা দিয়ে কাজ হয় না।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন তালা উপজেলার কাটবুনিয়া গ্রামের সাধনা মন্ডল।

তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে বাড়ির পুরুষরা সবাই কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে মাছের ঘেরে শ্রমিকের কাজ করছি। তার সংসারে ছেলে-মেয়েসহ ছয় জন মানুষ। সকাল ৮ থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত কাজ করে পায় ২০০ টাকা । এই টাকা দিয়েই চলে তার সংসার। খেয়ে না খেয়ে দিন চলে খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই। সরকারি কোনো অনুদান আসলেও আমাদের পর্যন্ত আসে না। ওরা সব ভাগ করে নেয়। কোথায় যাবো, কি করবো। তাই বাধ্য হয়ে মাছের ঘেরে জন দিতে আইছি।’

সাতক্ষীরার তালা উপজেলা থেকে ১২ কিলোমিটার পূর্বদিকে কাটবুনিয়া গ্রাম। এ গ্রামে প্রায় ৩০০ পরিবারের দুই হাজার ৫০০ মানুষের বসবাস। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও তাদের গ্রামে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। হাজরাকাটি বাজার থেকে কাটবুনিয়া পর্যন্ত যেতে সড়কের দুই পাশে রয়েছে মৎস্য ঘের। মৎস্য ঘেরের পানির ঢেউ-এ সড়কও বিলীন হয়ে যায়। প্রতিবছর সড়ক সংস্কার করলেও মৎস্য ঘেরের কারণে বিলিন হয়ে যায়।

কাটবুনিয়া গ্রামের মহিলা শ্রমিক তৃপ্তি মন্ডল জানান, তাদের গ্রামের সাথে শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বলেই চলে। তাদের গ্রামে কেউ অসুস্থ্য হলে সড়ক পথে নিয়ে গেলে তিনি আরও অসুস্থ্য হয়ে যায়। এজন্য কোনো সময় নৌকায়, আবার কোনো সময় ঘাড়ে করে নিয়ে যেতে হয়।

একই গ্রামের বাসিন্দা সাধনা মন্ডল জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে বাড়ির লোক বেকার বসে আছে। ঘের মালিকরা ২০০ টাকা করে মহিলা শ্রমিক নিয়ে কাজ করছে। এজন্য তিনি কাজে আসছে। এমন বক্তব্য ওই গ্রামের অধিকাংশ মানুষের।