আব্দুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আযহা। তবে এবার করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরাসরি গরুর হাটে যাওয়া নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে জমে উঠেছে ডিজিটাল পশুর হাট। চলছে বেচাকেনা। বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এ বছর সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঘরে বসে অনলাইনে কোরবানির পশু কেনাবেচার জন্য পশুর হাট নামে মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ গত ১৩ জুলাই অ্যাপটি উদ্বোধন করেন। সিরাজগঞ্জ সহ রাজশাহী বিভাগের ৬টি জেলাসহ অন্য ২টি জেলা  নিয়ে গত ১৪ জুলাই এ ডিজিটাল হাটের যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধনের পরথেকে প্রায় নয়শত পশু বিক্রেতা এই অ্যাপে সংযুক্ত হয়েছেন। অ্যাপটি উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান।অ্যাপটি ডাউনলোড করে কোনো বিক্রেতা নিজে অ্যাকাউন্ট খুললে লাইভস্টক অ্যাডমিন অ্যাপ্রুভ করে দিলেই তার অ্যাকাউন্টটি সচল হবে। বিক্রেতা তার অ্যাকাউন্টে লগইন করার পর প্রাপ্ত ড্যাশবোর্ড থেকে পশুর ছবি, ভিডিও, ওজন, গায়ের রং, প্রজাতি, বয়স, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ইত্যাদির তথ্য দিয়ে পশুর বর্ণনা পোস্ট করবেন। পরে কোনো পশু বিক্রি হলে সেটিও ড্যাশবোর্ড থেকে চিহ্নিত করে দেবেন। অ্যাপটির মূল ব্যবহারকারী হবেন মূলত ক্রেতারা। এ ক্ষেত্রে ক্রেতাকে অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।ক্রেতার ইংরেজিতে প্রদত্ত মোবাইল নম্বরটি অ্যাপে ইউজার নেম হিসেবে ব্যবহার হবে। ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার পর তার জেলার বিভিন্ন খামারির পশু বিক্রি করার পোস্ট দেখতে পারবেন। কোনো একটি পোস্টের লিঙ্কে ক্লিক করলে সেখান থেকে ওই পশুর ছবি ও ভিডিওসহ বিস্তারিত তথ্য দেখতে পারবেন এবং বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের অপশন পাবেন। সেই অপশন থেকে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলতে পারবেন অথবা অ্যাপের মাধ্যমে মন্তব্য করেও বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। বিক্রেতা আগ্রহী হলে ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে পশুটি ক্রেতার কাছে সরবরাহের ব্যবস্থা করবেন।অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড চালিত যেকোনো ডিভাইস থেকে অটোইন্সটল করে অথবা www.poshurhaat.comওয়েবসাইটটি ব্রাউজ করে যেকোনো ডিভাইস (মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব) থেকে ব্যবহার করা যাবে। ক্রেতা ও বিক্রেতাকে অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না।পশুর হাট অ্যাপটি এমনভাবে ডেভেলপ করা হয়েছে যে এটি সারাদেশে ৬৪ জেলাতে একযোগে চালানো সম্ভব। বর্তমানে রাজশাহী বিভাগের ৬টি জেলাসহ অন্য ২টি জেলা মোট ৮টি জেলায় এ অ্যাপটি চলমান রয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও ধীরে ধীরে আগ্রহ বাড়ছে। সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে অন্যান্য জেলাও অ্যাপে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।অ্যাপটির উদ্ভাবনকারী সিরাজগঞ্জের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মতি নিয়ে যেকোনো জেলা পশুর হাট অ্যাপে যুক্ত হতে পারবে। অ্যাপটি শুধু কোরবানির ঈদের জন্য করা হয়নি, সারা বছরই আমাদের দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে প্রান্তিক খামারিদের গবাদিপশু, মাছ, পোলট্রি, ফুল-ফল ও সবজি বিক্রির বাজার তৈরিতে এ অ্যাপটি কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আমরা সে উদ্দেশ্য নিয়ে অ্যাপটিকে জনপ্রিয় ও কার্যকর করে গড়ে তুলতে কাজ করছি। এর জন্য সরকারিভাবে এটুআই বা টুআইসিটি প্রকল্পের একান্ত সহযোগিতা দরকার।এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, শুরুতে শুধু সিরাজগঞ্জ কেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা বা পরিকল্পনা করা হলেও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে ৮টি জেলা নিয়ে পরে এর কর্মকাণ্ড শুরু করা হয়। এ অ্যাপে সংযুক্ত হতে ঝালকাঠিসহ বিভিন্ন জেলা আগ্রহী হয়েছে।
উক্ত বিষয়ে যুক্তধারি তালিকা নিম্নে দেওয়া হলো 
১,মোট যুক্ত জেলা -৮ টি
২,মোট যুক্ত প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা -৪১জন
৩,মোট যুক্ত পশু-২০০৭টি (২৩-জুলাই,রাত ৮টা পর্যন্ত)
৪,মোট বিক্রিত পশু -৮৮টি (২৩ জুলাই, রাত ৮টা পর্যন্ত)
৫,মোট খামারী-১৭৮৯টি,