সৈয়দুর রহমান সৈয়দ- পাকুন্দিয়া ( কিশোরগন্জ) প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনুকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তের আদেশটি হাইকোর্ট স্থগিত করায় হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।সোমবার (২৭ জুলাই) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে বিষয়টি জানানো হয়।
পত্রে উল্লেখ করা হয়, “কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনুকে তার স্বীয় পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করণ সংক্রান্ত স্থানীয় সরকার বিভাগের গত ০৫/০৭/২০২০ তারিখের ৪৬.০৪৫.০২৭.০৮.০১৭.২০১৫-২৬৯ নং স্মারকের বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ ৫৬৩/২০২০ নং রীট পিটিশন মামলায় গত ১৫/০৭/২০২০ খ্রি. তারিখে নিম্নোক্ত আদেশ দেন। এমতাবস্থায় মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের উক্ত আদেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশের অনুলিপি নির্দেশক্রমে এতদসঙ্গে প্রেরণ করা হয়। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্মআহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম রেনু দ্বিতীয় বারের মতো উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
গত ৫ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
একই প্রজ্ঞাপনে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ কে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিষদের আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, যেহেতু মো. রফিকুল ইসলাম (রেনু), চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ এর বিরুদ্ধে জনৈক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার অপরাধে দায়েরকৃত দায়রা মামলা নং-১০৯/০১ (পাকুন্দিয়া থানার মামলা-১৫(৬)৯৯, জিআর-২৪৯(২)৯৯) এ বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক অভিযোগপত্র গৃহীত হয়ে। বর্তমানে অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালত, কিশোরগঞ্জে বিচারাধীন আছেন।
যেহেতু হত্যা মামলার একজন আসামী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আসীন থাকলে পরিষদের প্রতি জনসাধারণের শ্রদ্ধা ও আস্থা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা পরিষদ বা রাষ্ট্রের স্বার্থের হানিকর তথা জনস্বার্থের পরিপন্থী। এমতাবস্থায় উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ [উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১১] এর ১৩খ(১) ধারা অনুসারে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনুকে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো এবং পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১কে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিষদের আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করা হল।
 গত ২৮মে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনু’র বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক সেলিম হত্যা মামলার একজন আসামি (মামলা চলমান), অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বাক্ষর জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে পৌরসভার মেয়র, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যানসহ ৯জন ইউপি চেয়ারম্যান অনাস্থা দিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেন।