রাসেল কবির মুরাদ, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি   ঃ   কলাপাড়ায় গরু
বাজারে ছাত্রলীগ নেতার চাঁদাবাজী রুখে দিল পুলিশ। জনসাধারনের অভিযোগের
প্রেক্ষিতে কলাপাড়া থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের উদ্দোগে পুলিশ
মো. আলামিন (২৫) ও মো.মাসুম সর্দার (২০) নামের দুই চাঁদাবাজকে হাতে নাতে
আটক করে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় কলাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক
সুকন্ঠ দে বাদী হয়ে কলাপাড়া পৌর ছাত্রলীগ সম্পাদক মো: জুয়েল রানা সহ
৬জনের নামে একটি চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করেছে। গ্রেফতারকৃত চাঁদাবাজ
আলামিন নাচনাপাড়া এলাকার মো: হেলাল মুন্সির ছেলে এবং মাসুম সরদার
নীলগঞ্জ ইউনিয়নের রহমতপুর এলাকার মো: সিদ্দিক সরদারের ছেলে ।

জানা যায়, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখীমারা বাজারে স্থানীয় জনসাধারন পৌর
ছাত্রলীগ সম্পাদক জুয়েল রানা ও তার ক্যাডারদের হাতে বেশ কিছুদিন ধরে
চাঁদাবাজীর শিকার হচ্ছিল। জনসাধারন তাদের গবাদিপশু বাজারে এনে কেনা-বেঁচা
করতে গেলে পৌর ছাত্রলীগ সম্পাদক জুয়েল ও তার সহযোগীদের চাঁদা দিতে বাধ্য
করতো। এনিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার শেষবিকেলে কলাপাড়া
থানা পুলিশ পাখীমারা বাজারে অভিযান চালিয়ে   দুই চাঁদাবাজকে উত্তোলনকৃত
চাঁদার টাকা সহ হাতে নাতে আটক করে। এসময় ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা ও তার
অপর সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
কলাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক সুকন্ঠ দে জানান, ’পাখীমারা বাজার উপজেলা
প্রশাসন থেকে কোন ইজারা দেয়া না হলেও ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল ও তার সহযোগীরা
জনসাধারনের কাছ থেকে গরু প্রতি নূন্যতম ১হাজার ও ছাগল প্রতি ৫শ টাকা হারে
বলপূর্বক আদায় করতে থাকে। দাবীকৃত টাকা না পেলে জনসাধারনকে ভয় ভীতি
প্রদর্শন করে। জনসাধারনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার বাজার থেকে দুই
চাঁদাবাজকে হাতে নাতে আটক করা হয়েছে।

কলাপাড়া থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ’পাখিমারা বাজারে কোন
ইজারা নেই । এ হাট থেকে খাজনা আদায়ের নামে চাঁদা আদায়ে জনসাধারন
বিড়ম্বনার শিকার হওয়ায় আইনী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা
জুয়েল রানা ও তার অপর সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, কলাপাড়া থানা পুলিশ ২০১৯ সালের ১৬ মার্চ পৌরশহরের হোটেল
রুবানের সামনে থেকে ইয়াবাসহ ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানাকে গ্রেফতার করে।
পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় জুয়েলের নামে আদালতে চার্জশিট
দাখিল করে পুলিশ। এছাড়া জুয়েলের নামে ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও
সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।