হাসান চৌধুরী (মানিকগঞ্জ)-সংবাদদাতাঃমানিকগঞ্জে বন্যার পানি কমলেও সাতটি উপজেলায় বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের চরম ভোগান্তি। সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে সিংগাইর, হরিরামপুর, শিবালয়, দৌলতপুর উপজেলায়। বুধবার ২৯ শে জুলাই দুপুর থেকে পদ্মা-যমুনায় পানি কমতে শুরু হয়েছে কিন্তু বন্যা কবলিতরা পরিবার পরিজন, বিভিন্ন প্রকারের পশু নিয়ে বিপাকে। তারপরও থাকা খাওয়া পঃয়নিষ্কাশন ও খাবার পানি বড় অভাব দেখা দিয়েছে। মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঢলের ও বর্ষার পানির প্রভাবে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত ও ফেরি চলাচল থেকে থেকে ব্যাহত হচ্ছে। বুধবার কিছুটা পানি পরিমাপ কমলেও সোম-মঙ্গলবার পানির পরিমান বিপদসীমার ১৩৮ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বুধবার গভির রাত অবদি পর্যন্ত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় তেমন কোন যানবাহন দেখতে পাওয়া যায়নি। গত বছর এই সময় ঈদের এক সপ্তাহ আগের থেকে ঘাট এলাকায় ঘরে ফেরা যাত্রী ও যানজট লেগে থাকত। বর্তমান অদম্য প্রমত্তা পদ্মা-যমুনা ক্ষেপে গত ২৪ ঘণ্টায় বিপদ সীমার ১২৪ সে.মি. উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে স্থানীয় মানিকগঞ্জ জেলার পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে। শনিবার সকালে যথাযথ কর্তপক্ষ জানান যে, পদ্মা-যমুনায় ৯.৭৫ সে.মি. পানি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করেছিল গত বুধবার থেকে তখন ৪ সে.মি. পানি কমলেও সময় বাড়ার সাথেসাথে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে যা বন্যার চরম পর্যায়ে এবং বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয় বোর্ড, বিআইডবিøউটিএ, হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ এই তথ্য দিয়ে আরো জানান যে, তৃতীয় দফায় পানি বাড়ার সম্ভাবনা কথা বললেও ঠিক তাই হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টায় পদ্মা-যমুনার দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া পয়েন্টে ৯.৬৩ সে.মি. পানির পরিমাপ ছিল। পদ্মা-যমুনার পানি হ্রাস-বৃদ্ধির দুলাচলে বন্যা পরিস্থিতি সামান্য উন্নতি হলেও পরবর্তীতে তা চরম অবনতির দিকে কালক্রমে ধাপিত হচ্ছে। বুধবার সকালে আরিচা-দৌলতদিয়া অঞ্চলের পানির পরিমাপে জানা যায় যে, অনুরূপ পানি হ্রাস-বৃদ্ধির খেলায় মেতে থাকলেও অতি ভারি বর্ষনের ফলে পানি এলাকার নি¤œাঞ্চল পর্যায়ক্রমে প্লাবিত হচ্ছিল। মুসুলধারে বৃষ্টি থেকে থেকে ভারী বর্ষণে পদ্মা-যমুনার উপচে পড়া পানিতে শিবালয়ের চরাঞ্চল ত্রিশুন্ডি, আলোকদিয়া, চর শিবালয় এবং উপক‚লবর্তি জাফরগঞ্জ, গোয়ারিয়া, মালুচী, তেওতা, ঝিকুটিয়া, নিহালপুর, আরিচা, দক্ষিণ শিবালয়, অন্বয়পুর, ঝড়িয়ারবাগ, এলাচিপুর, দাসকান্দি, পাটুরিয়া, বড়রিয়া, নয়াকান্দিসহ উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম নিমজ্জিত। মঙ্গলবার সকালের সংবাদে বিআইডবিøউটিএ’র বেতার চালক ও হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের গেজ পাঠক এ প্রতিনিধিকে জানান যে সকাল ৬টায় পদ্মা-যমুনার পানি বিপদসীমার ১২০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের গেজ পাঠক জানান যে, শুক্রবার রাতে পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে বুধবার থেকে ১২টি ছোট-বড়-মাঝারি ফেরি চলাচল করলেও প্রবল ¯্রােতের কারণে পারাপারে দ্বিগুন সময় লাগছে। পদ্মা-যমুনার চরাঞ্চল ও উপক‚লবর্তি বাসীন্দারা বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের আতংকের ভিতর দিনাতিপাত করছে। ফসলি জমি সম্পন্নরূপে প্লাবিত, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজগুলোর আঙ্গিনা পানিকে থৈথৈ করছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে যানজট ও চরম যাত্রী দুর্ভোগ। পদ্মা-যমুনায় বাতাসে সৃষ্ট স্রোত ও ঘুর্ণায়মান ঢেউয়ে দিক-বিদিক নৌ-যান চালকরা। বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া উভয় প্রান্তে সহ¯্রাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায়। এ সময় উভয় প্রান্তের টার্মিনালগুলো ট্রাকে ভর্তি এবং মহাসড়কে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী কোচগুলো দীর্ঘ লাইন পরিলক্ষিত হয়। সূত্রে জানা যায় শিবালয় উপজেলাসহ নিকট উপজেলাগুলোর হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। থেমে থেমে ভারি বর্ষণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। চিন্তিত হয়ে পড়েছে অভিভাবকরা তাদের শিশু, নারী ও বয়স্কদের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকায়। দুর্গত এলাকায় অসহায় মানুষদের ত্রাণ সামগ্রী সহায়তাসহ পানিবাহিত রোগের ঔষুধ জরুরি। পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পরিলক্ষিত হয়েছে। শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ কবির জানান ঘাট এলাকায় যাত্রী নিরাপত্তা, যানবাহনের বিশৃঙ্খলারোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে থানা এলাকার পশুর হাট ও ঘরমুখো যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে সকালের দিকে একজন যানবাহনের ড্রাইভারের কাছ থেকে অনৈতিকক্তার কার্যকলাপের অপরাধে পুলিশ আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে প্রেরণ করেছেন। বিআইডবিøউটিসি অফিস সূত্রে জানা যায় যে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া প্রান্তের ৪টি ফেরি ঘাটের মধ্যে ৫নং ঘাটটি মেরামতের জন্য বন্ধ রয়েছে। এও জানা যায় যে, দীর্ঘ দিন যাবৎ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান (রোরো) বড় ফেরি মধুমতি ভাসমান কারখানায় মেরামতে রয়েছে। আরও জানা যায় যে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই বহরে আরো বড় তিনটি ফেরি যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাবনাময় কেরামত আলী, রুহুল আমিন, শাহজালাল নামক বড় (রোরো) ফেরি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এই বহরে যোগ দিলে ঘরে ফেরা মানুষের জন্য দুর্ভোগ লাঘব হবে। গত ঈদে এই বহরে ১০টি বড় ফেরিসহ মোট ১৮ ফেরি নিয়ে পারাপার হয়েছে। এ বার ৯টি বড় ফেরি ও ৬টি ছোট-মাঝারিসহ মোট ১৫টি ফেরির মাধ্যমে পারাপার করার কথা রয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে জানা যায় ঢল ও অতি বর্ষনের পানি তৃতীয় দফায় অতি মাত্রায় বৃদ্ধি শুরু করলেও প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন নি¤œাঞ্চল সাথে বাড়ছে রোগ-শোকের ও পোকা-মাকড়ের প্রাদুরভাব। বর্তমানে পাটুরিয়াতে হামিদুর ও শাহ্ আলী ফেরি ২টি মধুমতি কারখানায় মেরামতে রয়েছে দুপুর ১২ টায় সর্বশেষ সংবাদে পাটুরিয়া প্রান্ত থেকে ছেড়ে সাড়ে ৭ শত যানবাহন অন্য প্রান্তে পার হয়েছে। বিআইডবিøউটিসির সংবাদ মাধ্যমে আরো জানা যায় যে, শুক্রবার রাতে কেরামত আলী নামে একটি ফেরি এ বহরে যোগ দেওয়ায় মোট ১৬টি ফেরির মধ্যে ৭টি বড় ফেরি পারাপার করছে। রুহুল আমিন ও শাহ্ আলী নামে আরো ২টি বড় ফেরি বৃহস্পতিবারের ভিতর শুধুর নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড থেকে এসে যুক্ত হবে বলে জানা যায়। মাওয়া ঘাট বিপর্যয় ঘটায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। আরো জানা যায় যে, শিমুলিয়ার একটি ফেরি ঘাট পদ্মায় বিলিন হওয়ায় ও বিভিন্ন কারণে ফেরি চলাচলে বিঘœ ঘটায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া প্রান্তে বাড়তি যানবাহনের চাপ পর্যায়ক্রমে বেড়ে চলেছে। বৃহস্পতিবার বেলা বাড়ার সাথে সাথে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে চলেছে। শান্তি শৃংঙ্খলা ও জান-মাল রক্ষার্থে কয়েকটি স্থরে বিভিন্ন সংস্থার আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা।