বিশ্বজুড়ে কিছুটা কমেছে প্রাণহানি ও আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তারপরও গত একদিনে দুই লাখের বেশি মানুষের দেহে শনাক্ত হয়েছে ভাইরাসটি। প্রাণ গেছে অন্তত সাড়ে ৪ হাজার ভুক্তভোগীর। অপরদিকে, একই সময়ে সোয়া দুই লাখ রোগী পুনরুদ্ধার হয়েছে, যা শনাক্ত রোগীর তুলায় বেশি।

বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের নিয়মিত পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বের ২ লাখ ১২ হাজার ৬২৯ জন মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে করে আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ১৮ লাখ ১৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৫৩৩ জনের। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে প্রাণহানি ঘটেছে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৭৫৯ জন মানুষের।

তবে আশার কথা হলো, গত ২৪ ঘণ্টায়ও সোয়া দুই লাখের বেশি রোগী সুস্থ হয়েছেন। এতে করে মোট বেঁচে ফেরার সংখ্যা ১ কোটি ৪৫ লাখ ৫৪ হাজারে ছুঁই ছুঁই।

এখন পর্যন্ত ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও উৎপত্তিস্থল চীনে নিয়ন্ত্রণে ভাইরাসটি। তবে দেশগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও মুক্ত হচ্ছে না পুরোপুরি। এখনও প্রতিদিনই কমবেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে এখন পর্যন্ত ৫৫ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি মানুষ ভাইরাসটির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে না ফেরার দেশে ১ লাখ ৭৩ হাজার ১২৮ জন মানুষ।

ব্রাজিলে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ লাখ ৪০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। প্রাণহানি ১ লাখ ৭ হাজার ৮৭৯ জনে ঠেকেছে।

সংক্রমণে তিনে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতে গত এক দিনেই ৫৮ হাজার মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে করে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ লাখ ৪৭ হাজার টপকেছে। প্রাণহানি বেড়ে ৫১ হাজার পেরিয়েছে।

রাশিয়ায় সংক্রমিতের সংখ্যা ৯ লাখ ২৩ হাজারের কাছাকাছি। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৬৮৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনায়।

আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় সংক্রমিতের সংখ্যা ৫ লাখ ৮৭ হাজার। আর মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ৮৩৯ জনের। পেরুতে আক্রান্ত ৫ লাখ ৩৬ হাজার। যেখানে মৃতের সংখ্যা ২৬ হাজার ২৮১ জন।

উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোয় আক্রান্ত ৫ লাখ ১৭ হাজার। প্রাণ গেছে ৫৬ হাজার ৫৪৩ জন মানুষের। কলম্বিয়ায় শনাক্ত হয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার রোগী। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৫ হাজার ৯৭ জনের। চিলিতে সংক্রমণ ৩ লাখ ৮৬ হাজার। এর মধ্যে ১০ হাজার ৪৫২ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা।

নিয়ন্ত্রণে আসা স্পেনে আক্রান্ত বেড়ে ৩ লাখ ৫৯ হাজারের কাছাকাছি। প্রাণ গেছে সেখানে ২৮ হাজার ৬১৭ জনের। টানা ৪৮ ঘণ্টা দেশটিতে সংক্রমণ ও প্রাণহানি ঘটেনি।

মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক দেশ ইরানে করোনার শিকার ৩ লাখ ৪৩ হাজার। প্রাণহানি ঘটেছে ১৯ হাজার ৬৩৮ জনের। যুক্তরাজ্যে সংক্রমিতের সংখ্যা ৩ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। যেখানে মৃত্যু হয়েছে ৪১ হাজার ৩৬৬ জন মানুষের।

সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ সাড়ে ৯৮ হাজার। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৪০৮ জন। আর্জেন্টিনায় করোনা হানা দিয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজারের অধিক মানুষের দেহে৷ প্রাণ কেড়েছে ৫ হাজার ৭০৩ জনের।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে করোনার শিকার ২ লাখ প্রায় ৮৯ হাজার। মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ১৬৮ জনের।

আর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে, রবিবার (১৬ আগস্ট) পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৭৬ হাজার ৫৪৯ জন। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ৩ হাজার ৬৫৭ জনের।