মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা, এমপি মোস্তাফিজের এপিএসসহ আটক ৪

মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা, এমপি মোস্তাফিজের এপিএসসহ আটক ৪

হামলার সময় এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল (লাল বৃত্ত), জিল্লুল করিম শরিফী ও পৌর কাউন্সিলর দিলীপ চক্রবর্তী

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলার ঘটনায় বাঁশখালী (চট্টগ্রাম-১৬) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের এপিএস (ব্যক্তিগত সহকারী) এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান রাসেলসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ড আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। এদের একজনের নাম রাসেল। এ ঘটনায় হামলায় আহতদের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

aps

আটকের পর থানায় রাসেল

এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে বাঁশখালীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান কর্মসূচিতে সশস্ত্র হামলায় মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। হামলার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের অনুসারীদের দায়ী করেন।

সাংবাদিকদের ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, কর্মসূচি শুরুর পর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমানের এপিএস এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল ও বাঁশখালী পৌর মেয়র সেলিমুল হকের যৌথ নেতৃত্বে একটি মিছিল অবস্থান কর্মসূচির দিকে এগিয়ে আসছে। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মিছিলের লোকজন লাঠি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা চালায়। এতে পণ্ড হয়ে যায় কর্মসূচি।

এর আগে সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ব্যানারে। মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী মৌলভী সৈয়দের বড় ভাই ডা. আলী আশরাফকে মৃত্যর পর সম্মাননা না জানানো, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্থানীয় সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমানের কটূক্তির প্রতিবাদ, বাঁশখালীতে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে হামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়। কর্মসূচিতে সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কর্মসূচি শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটে হামলার ঘটনা।

ঘটনার সময় প্রেস ক্লাবের সামনে অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে ছিলেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ।

তিনি বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের এপিএস ও বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র সেলিম উল হকের নেতৃত্বে একবদল যুবক মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলে পড়ে। মিছিল নিয়ে এসে লাঠিসোটা দিয়ে পিঠিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পণ্ড করে দেয়। এ সময় কর্মসূচিতে অংশ নেয়ারা ছাড়াও সাংবাদিকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। পরে পুলিশ-জনতা ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করে।’

apps

ছবিতে এমপির এপিএস মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল ও অপরজন বাঁশখালী পৌর মেয়র সেলিমুল হক

হামলায় আহত কয়েকজন হলেন- মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার মোজ্জাফফর আহমদ, বাঁশখালী কমান্ডার আবুল হাশেম, সাতকানিয়া কমান্ডার আবু তাহের, মুক্তিযোদ্ধা আজিমুল ইসলাম ভেদু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, মৌলভী সৈয়দের ভাতিজা জয়নাল আবেদীন, জহির উদ্দীর মো. বাবর, ইমরানুল ইসলাম তুহিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু সাদাত মো. সাইয়েম, মোব্বাশের হোসেন সোহান, কামরুল হুদা পাভেলসহ বেশ কয়েকজন ফটোসাংবাদিক।

এমপির এপিএস কে এম মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল ও বাঁশখালী পৌর মেয়র সেলিমুল হকের নেতৃত্বে এই হামলায় বাঁশখালীর ৪ নং বাহারছড়ার মো. মনজুরুল ইসলাম, ৩ নং খানখানাবাদ ইউনিয়ন ডোংরার ফয়জুল মুবিন, ডোংরার শাহে জিসান, চাঁপাছড়ি ৪ নং বাহারছড়ার নূর উদ্দীন মোহাম্মদ রকিসহ অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জন অংশ নেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

পরে মুক্তিযোদ্ধা জনতা এক হয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বে জামালখানে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ হয়। সমাবেশে যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনিসহ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা এজন্য বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমানকে দায়ী করেন।

সমাবেশে মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমদ সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমানকে আওয়ামী লীগের সব পদ ও সংসদ সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানান।