ডা: মো: হাফিজুর রহমান (পান্না), রাজশাহী ব্যুরো :পৃথিবীর সব বাঁধন ছিন্ন করে গত ৬ জুলাই পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এন্ড্্রু কিশোর। এ শিল্পীকে ঘিরে বেশ কিছু মিথ্যা খবর ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী লিপিকা। গতকাল (২৪ আগস্ট) এন্ড্্রু কিশোরের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

এতে লিপিকা লিখেন, ভেবেছিলাম আর কিছু লিখবো না। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন খবর দেখে না লিখে থাকতে পারলাম না। কিশোর বেঁচে থাকতে যারা কিছু বলার সাহস পায়নি আজ তারা অবলীলায় যা ইচ্ছা তাই বলছে। যাদেরকে কিশোর স্নেহ করতো বা শ্রদ্ধা করতো, তারা কি সুন্দর বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা কথা বলেছে বা লিখেছে।

মিথ্যা খবরের তালিকা জানিয়ে তিনি লিখেন আগের দিন কফিন বানাতে বলল। দুই. মায়ের পাশে সমাধি হতে চাই। তিন. বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। চার. মুক্তিযোদ্ধাদের গান শোনাত ইত্যাদি ইত্যাদি। আর ইউটিউবে তো ভুয়া খবরের ছড়াছড়ি। বিয়ে, ছেলে-মেয়ে, বাড়ি-গাড়ি, টাকা, সম্পত্তি নিয়ে মনগড়া গল্পের খবর আর ভিডিওর প্রতিযোগিতা চলছে। এসব দেখে খুব অবাক হয়েছি। মিথ্যা খবর বানিয়ে কার কি লাভ হচ্ছে ঠিক বুঝতে পারছি না। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান নাকি সামাজিকভাবে লাভবান হচ্ছে ঠিক জানি না।

এন্ড্্রু কিশোরের কোনো শিষ্য ছিল না বলে জানান লিপিকা। এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেন কিশোরের কোনো ছাত্র বা শিষ্য ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করে একজন নিজেকে শিষ্য বলে প্রচার করতে লাগলো। কিশোর ফোন করে তাকে বকা দিয়েছিল এবং বলেছিল কথাটা না লিখতে, কিন্তু সে সেটা শোনেনি। কিশোর খুবই কষ্ট পেয়েছিল এবং অসন্তষ্ট ছিল। সে নিজেকে শিষ্য পরিচয় দিয়ে প্রতিনিয়ত ইউটিউবে ভুয়া ভিডিও ক্লিপ আর খবর দিয়ে চলেছে। মানুষজন এসব ভুয়া খবর কতটুকু বিশ্বাস করছে তা বোঝার উপায় নাই।

এন্ড্্রু কিশোরের চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে লিপিকা লিখেন কিশোর একজন সত্যিকারের শিল্পী। একজন শিল্পীর যে গুণগুলো থাকা প্রয়োজন তা প্রায় সবগুলোই ওর মধ্যে ছিল। সিঙ্গাপুরে কিশোরের চিকিৎসা খরচ হয়েছিল প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা। যার ২৪ ভাগ দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার, ৩২ ভাগ আমাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন আর সবচেয়ে বেশি ৪৪ ভাগ দিয়েছিল দেশে-বিদেশের অগণিত শিল্পী, ভক্ত, অনুরাগী—যারা অন্তর থেকে চেয়েছিল কিশোর সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসুক।

অগণিত মানুষের ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়েছিলেন এন্ডু কিশোর। বিষয়টি জানিয়ে লিপিকা লিখেন, কিশোর আমাকে বলেছিলাম আমি অসুস্থ না হলে কোনোদিন বুঝতেই পারতাম না যে, মানুষ আমাকে এত ভালোবাসে। আমার জন্য এভাবে দুইহাত বাড়িয়ে দিবে এবং সে দেশে ফিরে সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাবে বলে অনেক কিছু ভেবে রেখেছিল। ভাবনাগুলো ভাবনাই থেকে গেল।