ভূমধ্যসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। বুধবার এক ফোনালাপে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এ খবর জানিয়েছে তুর্কি সংবাদ মাধ্যম ইয়েনি শাফাক।ফোনালাপে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্ক কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে না।তিনি বলেন, তার দেশ জোরালোভাবে এটা প্রমাণ করেছে যে, তারা উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী। এ ইস্যুতে তুরস্ক সংলাপে বসতেও প্রস্তুত রয়েছে।

গত ২৪ আগস্ট এক ঘোষণায় তুরস্ক জানায়, ভূমধ্যসাগরের বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমায় তাদের গবেষণা জাহাজ অরুচ রেইসের অনুসন্ধানের সময় ২৭ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই অনুসন্ধানকে বেআইনি হিসেবে আখ্যায়িত করে গ্রিস। এ নিয়ে গ্রিস পাল্টা সামরিক মহড়ার ঘোষণা দেয়।

এদিকে বুধবার পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইতালির সঙ্গে সামরিক মহড়ায় দুই দিনের জন্য যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ফ্রান্স। এমন উত্তেজনার মধ্যে তুরস্কের সঙ্গে বিতর্কিত অঞ্চলে নৌপ্রশিক্ষণ মহড়ায় যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে বুধবার সেলজুক তুর্কিদের বায়জান্টাইন সম্রাজ্যের বিরুদ্ধে মালাজগার্ট বিজয়ের ১১ শত বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক সম্মেলনে এরদোগান বলেন, কৃষ্ণ সাগর, এজিয়ান ও ভূমধ্যসাগরে তুরস্ক তার অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন তা করতে বদ্ধপরিকর।এ সময় তিনি আঙ্কারার প্রতিপক্ষকে কোনো ভুল পদক্ষেপ না নিতে সতর্ক করেন।

এরদোগান বলেন, যে কোনো ভুল তাদের ধ্বংস ডেকে আনবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের কোনো বিষয় নিয়ে আপস করব না, আমাদের যা প্রয়োজন তা করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা অন্য কারোর ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব বা ইচ্ছাতে নজর দিচ্ছি না তবে যা আমাদের তাতে ছাড় দিচ্ছি না।

এরদোগান গ্রিসকে এমন সব ভুল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান যা তাদেরকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে।

এক বিবৃতিতে গ্রিস সরকারের মুখপাত্র স্টেলিওস পেটসাস বলেন, কূটনৈতিকভাবে ও অভিযানের পর্যায়ে, উভয়ভাবে প্রস্তুতিসহ গ্রিস শান্তভাবে সাড়া দিচ্ছে, আর নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে পারবে এমন আত্মবিশ্বাসও গ্রিসের আছে।

অন্যদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলেছেন, অরুচ রেইস ও এটির পাহারায় থাকা আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর তৎপরতা থেকে এক পা পেছনে ফেরার পদক্ষেপও নিবে না।

সম্প্রতি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মিসর ও সাইপ্রাস বড় জ্বালানি খনির সন্ধান পেয়েছে। এরপরই তুরস্ক ওই এলাকায় প্রাকৃতিক সম্পদের খোঁজ পাওয়ার জন্য অতিমাত্রায় তৎপর হয়ে উঠে।