মোস্তাফিজুর রহমান লালমনিরহাটজেলা প্রতিনিধিঃবলতে পারো মা আমরা এতো গরিব কেন? শুধুমাত্র যৌতুকের জন্য আমার সংসার করা হলো না! আমার পাঁচ ভাই ইচ্ছা করলে যৌতুকের টাকা দিতে পারত।’ পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেয়ার আগে এমন আবেগ ভরা ভাষায় মর্মস্পর্শী চিরকুট লিখে গেছেন গৃহবধূ নিলুফার ইয়াসমিন সুমি।সুমি লালমনিরহাট পৌরসভার গার্ডপাড়া এলাকার মনসুর আলী সরকারের মেয়ে।১০ বছর আগে লালমনিরহাট সদরের মোঘলহাট ইউপির কোদালখাতা গ্রামের আব্দুস ছামাদের ছেলে রবিউল আউয়ালের সঙ্গে সুমির বিয়ে হয়। বিয়ে করার পরে যৌতুক নিতে কৌশলে স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে যেত রবিউল। পরিবার ও সুমির নিজ চেষ্টায় কয়েকবার স্বামীর বাড়িতে ফেরেন।তবে এক সপ্তাহের বেশি স্বামীর বাড়িতে পার না হতেই তার ওপর চলত অমানষিক নির্যাতন। টাকার প্রয়োজন হলে সুমির বাড়িতে এসে কয়েক দিন অবস্থান করতেন রবিউল। কখনো পাঁচ হাজার, কখনো সাত হাজার বা কখনো ১০ হাজার করে টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। এক পর্যায়ে নিজের ও মায়ের উপহার দেয়া দুই ভরি স্বর্ণালংকারও স্বামীকে দেন সুমি। তবুও যৌতুকের টাকা নেয়ার লোভ মুছে ফেলতে পারেননি স্বামী রবিউল।

এক পর্যায়ে সুমির পরিবারের কাছে ব্যবসার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন রবিউল। একইসঙ্গে মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার আবদার চালিয়ে যান। আবদার পূর্ণ না হওয়ায় সুমির ওপর চলে নিয়মিত মানসিক নির্যাতন। সেই নির্যাতকীটনাশক পান করেন সুমি। আর মৃত্যুর আগে লিখে যান চিরকুট।চিরকুটে সুমি লিখেন ‘আমার মৃত্যুর জন্য রবি (রবিউল) দায়ী’। এই মোবাইল ট্র্যাকিং করলে তোরা বুঝতে পারবি। রবি আমাকে আত্মহত্যার জন্য অনেক দিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে। তোরা রবিকে ছাড়িস না। ইতি সুমি।সুমির মৃত্যুর ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানার মামলা হয়েছে। সেই মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগষ্ট দুপরে নিজ বাড়িতে কীটনাশক পান করেন সুমি। পরিবারের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করেন। সেখানকার চিকিৎসক সুমিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে রাত ৮টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।স্বামী রবিউল আউয়াল বলেন, সুমি মানসিক রোগী ছিলেন। যৌতুকের বিষয়ে অস্বীকার করে তিনি বলেন, সুমিকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। কখনো তাদের কাছ থেকে টাকা চাইনি। এদিকে সুমির বড় ভাই বলেন, যৌতুকের টাকার জন্য সুমিকে সবসময় মানসিক চাপে রাখতো রবিউল। এক পর্যায়ে সুমি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।লালমনিরহাট সদর থানার এসআই মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলা দায়েরের পর তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।