ডেস্ক নিউজঃ মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে ২০ বছর কাটানোর পর মুক্তি পাচ্ছেন বাগেরহাটের জাহিদ শেখ। বুধবার বিকালে সুপ্রিমকোর্ট থেকে তাকে দ্রুত মুক্তি দেয়ার রায় খুলনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্ত্রী ও কন্যাকে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাহিদ শেখকে মঙ্গলবার খালাস দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল আপিল বিভাগ। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী সারওয়ার আহমেদ।

সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালের ১৬ জানুয়ারি দেড় বছরের মেয়ে রেশমা খাতুন ও স্ত্রী রহিমা খাতুনকে হত্যার অভিযোগে জাহিদ শেখের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। এ মামলায় ২০০০ সালে বিচারিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর থেকে জাহিদ কারাগারে। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০০৪ সালে হাইকোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে জাহিদ আপিল করেন।

শুনানি শেষে মঙ্গলবার তার আপিল মঞ্জুর করা হয়। বাগেরহাটের ফকিরহাট থানায় জাহিদ শেখের বিরুদ্ধে তার শ্বশুর ময়েন উদ্দিনের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৯৯৫ সালে খুলনার রূপসা থানার নারিকেলি চাঁদপুরের ইলিয়াছ শেখের ছেলে জাহিদ শেখের সঙ্গে রহিমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর জাহিদ ঘরজামাই থাকত। ঘটনার তিন মাস আগে বাবার বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে একটি পাকা ঘরে রহিমা স্বামী-সন্তানসহ বসবাস শুরু করে।

১৯৯৭ সালের ১৬ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ফকিরহাটের উত্তর পাড়ায় ময়েন উদ্দিনের স্ত্রী আনজিরা বেগম মেয়ের বাড়িতে যান। দরজা বন্ধ দেখে তিনি বাইরে থেকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে দেখেন খাটের ওপর কাঁথা ও লেপের নিচে মেয়েসহ রহিমা শোয়া।

কাঁথা সরানোর পর তাদের গলায় মাফলারের গিঁট দেয়া অবস্থায় মৃত দেখতে পান আনজিরা। তার কান্নাকাটি ও চিৎকারে পাশের লোকজন এসে ছুটে আসেন। একইদিন সকাল ৯টার দিকে জাহিদকে টেম্পো করে খুলনার দিকে অনেকে যেতে দেখেন। ১৯৯৭ সালের ১৬ জানুয়ারি জাহিদ শেখের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন শ্বশুর ময়েন উদ্দিন।