এস এম মারুফ, ক্রাইম রিপোর্টারঃযশোরের কেশবপুর উপজেলার দুটি গ্রামের দু’শতাধিক কৃষক বিষমুক্ত সবজি চাষে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে সাফল্য দেখিয়েছেন।

কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বেগুন, কুমড়া, শিম, বরবটিসহ নানা ধরনের সবজি আবাদ হয়ে আসছে। কিন্তু এসব সবজিতে উচ্চ মূল্যের কীটনাশক ব্যবহারের পরও খরচের টাকা উঠতো না বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। এ অবস্থায় উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ওই ২ গ্রামের দু’শতাধিক কৃষক ১৭০ বিঘা জমিতে নিজ উদ্যোগে মাচা পদ্ধতির কুমড়া চাষে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে লাভবান হয়েছেন।

বাগদা গ্রামের কৃষক মশিয়ার গাজী ও সাঈদ মোড়ল জানান, তারা গত ৪ বছর ধরে মাচা পদ্ধতিতে কুমড়ার আবাদ করে আসছেন। এ পদ্ধতির আবাদ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিন্তু কুমড়া ক্ষেতে উচ্চ মূল্যের কীটনাশক ব্যবহারের পরও ক্ষতিকর পোকা দমনে ব্যর্থ হয়ে তারা এ ফসল আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেন। এমতাবস্থায় তারা উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে কুমড়া ক্ষেতে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে বিঘা প্রতি ১০/১২ হাজার টাকা খরচ করে ৬০ থেকে ৭০ মণ ফলন পেয়েছেন। যার মূল্য ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। তবে এ উপজেলায় সবজি সংরক্ষণে কোনো কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকেন বলে কৃষকরা দাবি করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের উপর মাঠ দিবসের উদ্দেশ্য হল মাচা পদ্ধতির কুমড়ার আবাদ সম্প্রসারণ, কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি, উন্নত জাতের সঙ্গে পরিচয় ঘটানোসহ নতুন প্রযুক্তি চাষিদের মাধ্যমে মাঠে বাস্তবায়ন করা। সাধারণত কুমড়া রোপণের ৪৫ দিনেই ফল আসা শুরু হয় এবং ৯০ দিনেই কৃষকের ঘরে ওঠে। এ পদ্ধতিতে খরচ কম, ফলন বেশি পাওয়া যায়। সেক্স ফেরোমন ফাঁদ হলো স্ত্রী মাছি পোকার গায়ের গন্ধের অনুরূপ জৈবিক পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি টোপ (লিয়র)। যা পোকার যৌন মিলনের জন্য পুরুষ পোকা আকৃষ্ট হয়ে ফাঁদের সাবান মিশ্রিত পানিতে পড়ে মারা যায়।