তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি

রাজশাহীর মোহনপুর সরকারী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমান মিজান তানোর উপজেলার জৈনক ব্যক্তির কন্যার সঙ্গে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন এবং বিয়ে না করে আত্নগোপণ করেছে। এদিকে ভিকটিম নারী বিয়ের দাবিতে প্রভাষকের বাড়িতে অনশনে বসলে তাকে মোহনপুর থানা পুলিশ হেফাজতে নেয়। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২২ জুলাই বুধবার ওই নারী বিয়ের দাবি নিয়ে প্রভাষকের বাড়িতে অনশনে বসে। এদিকে খবর পেয়ে মোহনপুর থানা পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার ওই রাতেই তানোর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর ও থানায় মামলা করা হয় । অন্যদিকে মামলা করার দীর্ঘ প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও আসামি প্রকাশ্যে ঘুরলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ আসামি প্রভাষক মিজানুর রহমানকে আটক করতে পারেনি। আবার আসামি আটকের পরিবর্তে রফাদফার উদোগ নিয়েছে প্রভাষক মিজানের মামা ক্ষমতাসীন দলের দাপটে নেতা বলে অভিযোগ ভিকটিমের স্বজনদের।

জানা গেছে, ওই নারী প্রভাষক মিজান ও তাঁর সহযোগী মারুফ হোসেনকে বিবাদী করে আইনজীবীর মাধ্যমে পুলিশ এবং ৯৯৯ নম্বর হটলাইনে গত ১০ জুলাই লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্ত্ত মামলার অগ্রগতি ও আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় তারা হতাশ পুলিশের ভুমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী এবং তাঁর পরিবার । স্থানীয়রা শিক্ষক সমাজের কলঙ্ক নারী লোভী মিজানের দৃস্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এরকম আরো অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির জৈনক ব্যাক্তির কন্যা রাজশাহী কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে অনার্স মাস্টার্স করেছেন।বিগত ২০১৯ সালে মোহনপুর সরকারী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমান মিজানের সঙ্গে মুঠোফোনের সুত্র ধরে পরিচয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।এদিকের প্রেমের সম্পর্কের সুত্র ধরে ওই নারীর বাড়িতে প্রভাষক মিজান ও তার বন্ধু মারুফ নিয়মিত যাতায়াত করতেন।

চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি বুধবার প্রভাষক মিজান তাঁর বাবা-মা ও বন্ধু মারুফকে নিয়ে ওই নারীর বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যায়। এদিকে উভয় পক্ষের অভিভাবক বিয়ের কথাবার্তা সম্পন্ন করে মিজানের বাবা-মা চলে আসেন। কিন্ত্ত মিজান ও তার বন্ধু মারুফ ওই নারীর বাড়িতে থেকে যায় এবং এদিন রাতে মিজান ওই নারীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এর পর থেকে নারীকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে মিজান আর এসব অপকর্ম করতে তাকে সহায়তা করেন বন্ধু মারুফ। এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রভাষক মিজানুর রহমান মিজান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই মেয়ের, বয়স অনেক বেশি এই জন্য বিয়ে করিনি তিনি বলেন, তিনি গুরুত্বর অসুস্থ, তার মামা সুলতানের সঙ্গে কথা বলেন। এবিষয়ে ভিকটিম নারী অশ্রুসিক্ত হয়ে বলেন, তার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে মিজান, তিনি বলেন, মিজান প্রকাশ্যে ঘুরলেও একমাসেও তাকে কেন গ্রেফতার করছে না পুলিশ বুঝতে পারছি না। তিনি আরো বলেন, তাঁরা ক্ষমতাসীন দলের লোক এজন্যই হয়তো পুলিশ তাকে ছাড় দিচ্ছে। আমি তাঁর চরম সাজা চাই যাতে করে অন্যরা এমন কাজ করতে ভয় পায়। এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসান রাকিব জানান মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে, আসামি গ্রেফতারের অভিযান চলছে। তিনি বলেন, মামলার যাবতীয় কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে ।এবিষয়ে রাজশাহীর পুলিশ সুপার( এসপি) শহিদুল্লাহ বলেন মামলার কাগজপত্র দেখতে হবে বেলা ১১ টার দিকে পুনরায় ফোন দিবেন।