• রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে নটর ডেম কলেজ রোডের দিকে পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যেন রাস্তা পার না হতে পারে, সে কারণে আইল্যান্ডের উপরে রেলিং দেয়া। তারপরও রেজাউল করিম নামের এক পথচারী হঠাৎ ব্যস্ততম রাস্তা পার হওয়ার জন্য দৌড় দিয়ে গিয়ে দাঁড়ালেন আইল্যান্ডের পাশে। এরপর রেলিংয়ের ফাঁকা অংশ দিয়ে ঢুকে রাস্তার ওপাশে গেলেন। অথচ পাশেই যাতায়াতের ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে।

এ বিষয়ে রেজাউল করিম বলেন, ‘কাজের তাড়া আছে। দ্রুত অফিসে যেতে হবে। অনেকে এখান দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে দেখে আমিও আসলাম।’ জীবনের চেয়ে কি সময়ের মূল্য বেশি– প্রশ্ন করলে উত্তর না দিয়ে চলে যান তিনি।

Motijhil-2

এভাবে রেজাউল করিমের মতো মতিঝিল এলাকায় শত শত পথচারী প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। রেলিংগুলো দীর্ঘদিন ভাঙা থাকা সত্ত্বেও মেরামত করছে না কর্তৃপক্ষ। এতে রাস্তা পারাপারের সুযোগ থাকায় ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ততম সড়ক পার হচ্ছে পথচারীরা। এ ব্যাপারে অধিকাংশ পথচারীর মত, আইল্যান্ডের উপরের রেলিংয়ের ভেতর দিয়ে রাস্তা পারাপারের ‘সুযোগ’ আছে বলেই তারা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেন না।

Motijhil-3

মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার মাঝখানের আইল্যান্ডের উপর রেলিং দেয়া। কিন্তু রেলিংয়ের অনেক জায়গায় লোহার পাতগুলো ভাঙা থাকায় ফাঁকা হয়ে আছে। ওই ফাঁকা অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন পথচারীরা। মালামাল নিয়েও পার হচ্ছেন অনেকে।

ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে রেলিংয়ের ফাঁক দিয়ে রাস্তা পার হয়ে আসা হোসেন আলী নামের এক পথচারী জানান, ওভার ব্রিজ পার হতে কষ্ট হয়। তাছাড়া স্টিলের গ্রিল ভাঙা থাকায় অনেককেই রাস্তার মাঝখান দিয়ে পারাপার হতে দেখা যাচ্ছে। সেজন্য আমিও আসলাম।

Motijhil-4

এদিকে রাস্তার পাশে যাতায়াতের জন্য যে ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে, তার বেহাল দশা। সেটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। নোংরা করে রেখেছে ব্যাংকপাড়া খ্যাত মতিঝিলের ব্যস্ততম এলাকার একমাত্র ফুটওভার ব্রিজটি। মাদকসেবী আর ভিক্ষুকরা বেশি অংশ দখল করে বসে থাকায় নির্বিঘ্ন চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন পথচারীরা।

Motijhil-3

ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে পার হয়ে আসা হায়দার নামের আরেক পথচারী জানান, মতিঝিল একটি বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে আসে। এ এলাকায় একটি ফুটওভার ব্রিজ, কিন্তু এর উপরে যে অবস্থা তা দেখলে কারোর ওঠার আগ্রহ থাকে না। মাদকসেবীরা প্রকাশ্যে মাদক নিচ্ছে, ভিক্ষুকরা চলাচলের রাস্তায় বসে আছে। ফুল গাছের টপগুলোর মধ্যে প্রস্রাব করে রেখেছে। দুর্গন্ধে যেকোনো সুস্থ মানুষ এখান দিয়ে পারাপারের সময় এই পরিস্থিতি দেখে বিরক্ত হবেন। তারপরও বাধ্য হয়ে পার হতে হয়। মেয়র সাহেবরা অনেক কিছু করছেন, কিন্তু রাজধানীর এই প্রাণকেন্দ্রের অবস্থা দেখার কি কেউ নেই? সদিচ্ছা থাকলে এটা দুই ঘণ্টার কাজও নয়। অথচ মাসের পর মাস মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।