সাভার প্রতিনিধিঃ   সাভারের আশুলিয়ায় সৌদি প্রবাসী সেন্টু সরকারকে (৩৫) গলাকেটে হত্যার ৬ দিন পর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে নিহতের ফেসবুক বন্ধু অভিযুক্ত শাকিল আহমেদ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 
সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়। তবে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত রাব্বী হোসেন নামে অপরজন এখনো পলাতক রয়েছে। 
গ্রেফতার শাকিল আহমেদ (২১) নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার মীরওয়ারিশপুর গ্রামের আবুল খায়ের চৌধুরীর ছেলে। সে ঢাকার চকবাজার এলাকায় একটি কসমেটিকস দোকানের কর্মচারী। পলাতক রাব্বী হোসেন (২৩) মানিকগঞ্জ সদর জেলার বাসিন্দা। 
পুলিশ জানায়, গত ২৫ আগস্ট আশুলিয়ার মধুপুর এলাকার নিজ নির্মাণাধীন বাড়ির কক্ষ থেকে সেন্টু সরকার নামে সংখ্যালঘু পরিবারের এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় লাশের পাশ থেকে একটি ভাঙ্গা ছুরি ও বটি উদ্ধার করেন তারা। নিহত সেন্টু গত ৭-৮ মাস পূর্বে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এই বাড়িতে একাই বসবাস করে আসছিলেন। যদিও তার স্ত্রী ও পরিবারের বাকীরা ঢাকার ধামরাই এলাকায় আলাদা বসবাস করতেন। 
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন কবির জানান, নির্মম এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় কোন ক্লু পাচ্ছিলেন না তারা। পরে ফেইসবুকে শাকিল ও রাব্বী নামে দুই যুবকের সাথে নিহত ওই প্রবাসীর ঘনিষ্ঠ সমকামিতার সম্পর্কের তথ্য বেরিয়ে আসে। এরই সূত্র ধরে ৩১ আগস্ট (সোমবার) ভোরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে শাকিলকে আটক করা হয়। পরে শাকিল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে। 
এসআই মামুন আরো বলেন, ফেসবুকে শাকিল ও রাব্বীরের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে সৌদি প্রবাসী সেন্টু সরকারের। কিন্তু আগে থেকেই রাব্বী ও শাকিল সমকামিতার গভীর প্রেমঘটিত সম্পর্কে জড়িয়ে ছিল। আর তাদের দুই জনের মাঝে প্রবাসী সেন্টু ফাঁটল সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিল জানতে পেরে হত্যার পরিকল্পণা আঁটা হয়। পরে শাকিল ও রাব্বী এক সপ্তাহ আগে আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় প্রবাসী সেন্টু সরকারের বাড়িতে আসে। এরপর রাত্রিযাপন শেষে সেন্টুকে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে দূর্বল করে হাত-পা বেঁধে ফেলে ওই দু’জন। পরে তাকে জবাই করে হত্যার পর পালিয়ে যায় তারা। 
এঘটনায় গ্রেপ্তার শাকিল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সমকামিতার জেরে সেন্টু সরকারকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে হত্যাকান্ডে জড়িত রাব্বী নামে অপরজন পলাতক রয়েছে। আজ মঙ্গলবার রিমান্ড চেয়ে গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।