‘শান্তির সংস্কৃতি’র আন্তর্জাতিক বর্ষ ঘোষণার ২১ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের ফোরামে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে ৭৪তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট তিজ্জানি মোহাম্মদ বান্দের বাংলাদেশের ফ্ল্যাগশিপ রেজুলেশন নিয়ে আলোচনা করেন।কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সভায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ, সদস্য দেশসমূহের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

এবারের উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রতিপাদ্য ‘শান্তির সংস্কৃতি: কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে নতুন বিশ্ব বিনির্মাণ’ ধারণা উপস্থাপনের পাশাপাশি এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

১৯৭৪ সালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ থেকে ‘মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য শান্তি একান্ত দরকার। এই শান্তির মধ্যে সারা বিশ্বের সকল নর-নারীর গভীর আশা আকাঙ্ক্ষা মূর্ত হয়ে রয়েছে’ অংশটুকু উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, জাতির পিতার এই কালজয়ী বক্তব্য ও আদর্শ থেকেই উদ্ভূত হয়েছে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবিচল প্রতিশ্রুতি, যা আমাদেরকে শান্তির সংস্কৃতির প্রসারে অনুপ্রাণিত করছে।

তিনি বলেন, এই মহামারীর সময়েও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের অনেক উদ্যোগে ছিল শান্তির সংস্কৃতির অনুরণন। এই মহামারী কাটিয়ে তুলতে বৈশ্বিক একাত্মতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টায় পরিপূরক হিসেবে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ ধারণাটিকে সন্নিবেশন করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা থিংক ট্যাংক ‘ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট’ (আইপিআই) আয়োজিত ‘শিক্ষা, কোভিড -১৯ এবং শান্তির সংস্কৃতি’ শীর্ষক একটি সাইড ইভেন্টে প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

এই ইভেন্টেও বক্তব্য দেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি বান্দে। সাইড ইভেন্টটির বক্তব্যে শিশুদের উপর বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কোভিড-১৯ এর মারাত্মক প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিবাংলাদেশের প্রস্তাব নিয়ে জাতিসংঘে আলোচনা