সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবীতে প্রতীকী লাশ নিয়ে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্ত অভিমুখে একক পদযাত্রা শুরুর আজ ১৮তম দিনে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার মীরবাগ থেকে কুড়িগ্রাম শহরে পৌঁছেছেন হানিফ বাংলাদেশী। এসময় তার পদযাত্রার সাথে সংহতি জানিয়েছেন গণকমিটি রাজারহাট ইউনিটের আরিফের নেতৃত্বে কুড়িগ্রামে গণকমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তাজুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক সুজা, সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের নেতৃত্বে অসংখ্য সাধারণ মানুষ। আগামীকাল সকাল ৮ টায় কুড়িগ্রাম থেকে তিনি আবারো পদযাত্রা শুরু করবেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং শুক্রবার সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একক পদযাত্রা শুরু করেন হানিফ বাংলাদেশী।

পদযাত্রা সম্পর্কে হানিফ বাংলাদেশী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত প্রতিবেশি ও বন্ধুপ্রতীম দেশ। আমরা চাই ভারত প্রতিবেশির সাথে মানবিক আচরণ কর”ক কিন্তু প্রতিনিয়তই ভারতের বিএসএফ নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা করে চলছে। হতে পারে তারা গর”চোর-চোরাকারবারি, এদের আইনের আওতায় বিচার করা হোক। যখন যে দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে তারা দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার জন্যে ভারতে তোষামোদী ছাড়া জনগণের জানমাল ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোন সরকারই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। এই সরকারের ১২ বছরের শাসন আমলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে, এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভূখ-ের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে প্রায় ৫০০ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে বিএসএফ। গত ১৯৯৬ সাল থেকে ২৫ বছরে ১২৬৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে বিএসএফ। শাসক দলগুলোর দুর্বল ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতি এবং ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার হীনস্বার্থে ভারত তোষণ নীতির কারণে বিএসএফ ধারাবাহিক হত্যাকা- চালিয়ে যেতে পারছে। অথচ আমরা দেখেছি অপেক্ষাকৃত ছোটদেশ নেপালের একজন নাগরিককে হত্যা করার পর নেপালের জনগণ ও সরকারের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছিল ভারত।”

তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, অবিলম্বে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যাকা- বন্ধ করতে হবে। বহুমাত্রিক কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ভারতের সাথে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিবেশীর সম্পর্ক নিশ্চিত করতে হবে।”