গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া এক নারীকে দেহ ব্যবসায়ী বলে আখ্যায়িত করার প্রতিবাদে অভিযোগের তদন্তকারী এস.আই এর শাস্তি চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই নারী। গঙ্গাচড়া রিপোর্টাস ক্লাবে গত শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ করেন ঐ এস.আই এর বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তর পানাপুকুর গিরিয়ারপাড় গ্রামের আজিজার রহমানের পুত্র খবির উদ্দিন (৫২) এর সহিত জামালপুর জেলার বাদেচান্দি (নান্দিনা) এলাকার চাঁদ মিয়ার মেয়ে নাসিমা বেগম (৪৫) এর সাথে ২৫ বছর পূর্বে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে স্বামীর বাড়িতে সংসার জীবনে চার সন্তানের জননী হয়। গত অনুমান ২ মাস পূর্বে নাসিমার স্বামী খবির উদ্দিন গোপনে ২য় বিবাহ করে বাড়িতে নিয়ে আসে। নাসিমা তাকে না জানিয়ে ২য় বিবাহের কারন জানতে চাইলে স্বামী খবির উদ্দিন তার ২য় স্ত্রী খবিরের ছোট ভাইসহ পরিবারের কয়েক জনের সাথে নাসিমার মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে গত ৩০ নভেম্বর স্বামী খবির উদ্দিন ২য় স্ত্রী রীনা বেগম, খবিরের ভাইসহ অন্যান্যরা নাসিমাকে বিধম মারপিট করে গুরুত্বর আহত করলে স্থানীয় লোকজন নাসিমাকে উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে নাসিমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ দিন চিকিৎসা শেষে নাসিমা তার ধর্ম ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয় এবং স্বামীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই আব্দুর রউফ নাসিমাকে মামলার স্বাক্ষী নিয়ে থানায় ডাকেন। নাসিমা স্বাক্ষীসহ গত ১৬/১০/২০২০ ইং তারিখ সন্ধ্যায় থানায় আসলে নাসিমাকে দেখা মাত্র ক্ষিপ্ত হয়ে এস.আই আব্দুর রউফ দেহ ব্যবসায়ী বলে গালিগালাজ করেন। থানায় মামলা হবেনা জানিয়ে আদালতে মামলা করার জন্য বলেন। বিষয়টি তাৎক্ষনিক স্বাক্ষী আল ইমরানকে নিয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সুশান্ত কুমার সরকারের কাছে গিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুর রউফ আমাকে দেহ ব্যবসায়ী বলে অসম্মান করেন বলে জানান। বিষয়টি অফিসার ইনচার্জ নিজেই দেখবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু পরের দিন মামলা রুজু না করায় নাসিমা বেগম সংবাদ সম্মেলন করে ওই এস.আই এর শাস্তি দাবীসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি সহায়তা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে নাসিমার পক্ষে তার মেয়ে বিজলী আক্তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করে। এ সময় নাসিমাসহ স্বাক্ষীগণ উপস্থিত ছিলেন। এস.আই আব্দুর রউফ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এ প্রতিনিধিকে জানান, ওই নারীকে এ ধরনের কথা বলা হয় নাই। অভিযোগটি মামলা হিসেবে অন্তভর্‚ক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।