রাজশাহী প্রতিনিধি:রাজশাহীর তানোর পৌরসভা নির্বাচনের প্রচারণা জমে উঠেছে।সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করে ভোটারদের দৃস্টি কাড়তে এলাকায় দৃস্টিনন্দন ব্যানার-পোস্টার-ফেস্টুন ইত্যাদি সেঁটে গণসংযোগও করেছেন। এতে পৌর এলাকায় নির্বাচনের আগাম হাওয়া বইছে।এদিকে সাম্ভব্য প্রার্থীদের এমন তৎপরতায় হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা কে কোন দলের মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন সেটা নিয়ে। তবে আবাসিক হোটেল ও হাট ব্যবসায়ী (ইজারদার) আবুল বাসার সুজনকে নিয়ে পৌর আওয়ামী লীগে মতবিরোধ সস্টির পাশাপাশি সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছে বহিরাগত ও জনবিচ্ছিন্ন সুজনকে চাপিয়ে দিয়ে টেনে তোলার চেস্টা করা হচ্ছে। তারা বলেন, সুজন মেয়র হলে নেতৃত্ব ও ক্ষমতার ভাগাভাগী নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতপার্থক্য দেখা দেবার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তারা স্থানীয় নেতৃত্ব চাই। কারণ তানোর পৌর নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে প্রার্থী কোনো ফ্যাক্টর নয় মেইন ফ্যাক্টর স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী ও উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না। আদর্শিক,

কর্মী-জনবান্ধব ও জননন্দীত এই দুই রাজনৈতিক নেতা যাকে সমর্থন দিবেন তিনি নিশ্চিত বিজয়ী হবেন এখানে প্রার্থীর কোনো ক্যারিশমা নাই তার পরেও বহিরাগত নেতৃত্ব কেনো। ইতমধ্যে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সুজনের হুঙ্কার ও আপত্তিকর বক্তব্য আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কয়েকভাগে বিভক্ত করেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আবাসিক হোটেল ও হাট ব্যবসায়ীরা কখানো ভাল জনপ্রতিনিধি হতে পারে না। কারণ হিসেবে তারা বলেন, পশুহাটে তিনি রিতিমতো জোর-জুলুম করে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি করছেন আবার সেই টাকায় তানোর পৌরসভায় লোক দেখানো দান-অনুদান দিয়ে দাতা ‘হাতেমতায়’ হতে চাচ্ছে। তারা বলেন, তিনি যদি এলাকার উন্নয়ন ও মানব সেবা করতে চান সেটা ভাল তাহলে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করে দেন, শুধু তানোর পৌরসভা কেনো পুরো উপজেলায় অনেক হতদরিদ্র মানুষ আছে তাদের সাহায্যে-সহযোগীতা করলেন না কেনো, এতোদিন তিনি কোথায় ছিলেন ভোট মৌসুমে কেনো, আবার এসব মানবিক কাজ করতে মেয়রের চেয়ারের দিকে নজর কেনো ওই চেয়ার ব্যতিত কি সম্ভব নয়-?

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তানোর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপির দখলে রয়েছে, কারণ পৌরসভার সিংহভাগ ভোটার জামায়াত-বিএনপি মতাদর্শী। তবে এবার আওয়ামী লীগের দখলে নিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মতামত ব্যতিত ও কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা পশ্চিম আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং আবাসিক হোটেল ও হাট ব্যবসায়ী (ইজারাদার) আবুল বাসার সুজনকে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী করার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। আর বিতর্ক ও দলীয়কোন্দলের সুত্রপাত সেখান থেকেই। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে জনবিচ্ছিন্ন ও চাপিয়ে দেয়া প্রার্থী বলে মনে করেছন। যে কারণে সুজন মাঠে নেমেই হয়েছে স্বজনহারা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতাকর্মীরা অনেক আগেই তাকে ত্যাগ করেছে এখন তৃণমুলের নেতাকর্মীরাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এতে চরম সংকটে পড়েছে সুজন। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া তো পরের কথা শক্ত প্রতিদন্দিতা করায় তার কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন তৃণমুলের নেতাকর্মীরা। একদিকে কোন্দল অন্যদিকে স্থানীয় ও বহিরাগত ইস্যুতে সুজন চরম বেকায়দায় রয়েছে।এ দিকে আবুল বাশার সুজন আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী ঘোষনা দিয়ে এলাকায় গনসংযোগ, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দান অনুদান দিয়ে ভোটারদের কাছে যাওয়ার ও মন জয় করার চেষ্টা করছেন। কিন্ত্ত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনবিচ্ছিন্ন, বহিরাগত ও চাপিয়ে দেয়া নেতৃত্ব মানতে নারাজ তারা কোনো ভাবেই সুজনকে মেনে নিবেন না রাজনীতিতে তাদের অবস্থান ধরে রাখতে প্রয়োজনে তারা সুজনের বিজয় ঠেকাতে স্বপক্ষ ত্যাগ করতেও পিছু পা হবেন না। এসব কারণে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কোনো ভাবেই সুজনকে মেনে নিতে পারছেন না। তারা প্রকাশ্যে বিরধীতা না করলেও তার সঙ্গে থাকছেন না বরং প্রতিপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তারা বলছে টাকা থাকলেই যদি জনপ্রতিনিধি হওয়া যেতো তাহলে বিত্তশীলরা কমবেশী সকলেই জনপ্রতিনিধি হয়ে যেতেন। কিন্ত্ত সেটা নয় জনপ্রতিনিধি হতে গেলে একটি রাজনৈতিক দলের প্লাটফর্ম দরকার এবং প্রয়োজন সেই প্লাটফর্মে সকল নেতাকর্মীর ঐক্যবদ্ধ অবস্থান যেটা সুজনের নাই তার দ্বারা সেটা করা সম্ভব নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌর আওয়ামী লীগের এক জৈষ্ঠ নেতা বলেন, মানুষ রাজনীতি করে একটা স্বপ্ন নিয়ে, যদি এভাবে জনবিচ্ছিন্ন ও বহিরাগত নেতৃত্ব চাপিয়ে দেয়া হয় তাহলে তাদের রাজনীতি করে কি হবে তারা কি সারাজীবন শুধু অপরের কামলা হয়েই থাকবেন কখানো কোনো চেয়ারে বসতে পারবেন না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কি দেউলিয়া হয়ে গেছে যে তারা স্থানীয় প্রার্থী দিতে পারছে না তাই জনবিচ্ছিন্ন ও বহিরাগত প্রার্থী দিতে হচ্ছে, তারা কোনো বহিরাগত নেতৃত্ব মানতে নারাজ নিজেদের অস্থিত্ব ধরে রাখতে বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন সেটা সম্ভব না হলে প্রয়োজনে তারা সুজনের বিজয় ঠেকাতে স্বপক্ষ ত্যাগ করতে পিছু পা হবেন না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বলেন, এক সময় তানোর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রয়াত এমরান আলী মোল্লার ঘনিষ্ঠ সহচর ও বিএনপির রাজনীতিতে অর্থের যোগানদাতা ছিলেন হাট ব্যবসায়ী সুজন। ২০০৬ সালের ২৫ আগস্ট মামলা চৌবাড়িয়া পশুহাটে চরমপন্থীদের সসস্ত্র হামলায় পুলিশসহ ব্যবসায়ী নিহতের আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলায় নাম এসেছিল ছিল সুজনের পিতা হাজী সামাদ মিঞাঁর মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন এবং সুজনের বিরুদ্ধেও টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজির অভিয়োগ রয়েছে, এমন বির্তকিত ব্যক্তি কিভাবে উড়ে এসে জুড়ে বসে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে পারে, জীবন বাজি রেখে তারা মাছ ধরবেন আর উড়ে এসে মাছের মাথা ছোঁমেরে নিয়ে সুখ পাখি হয়ে জুড়ে বসবে এটা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তারা এবিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃস্টি আকর্ষণ ও জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছন।

জানা গেছে, তানোর পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ইমরুল হক গত নির্বাচনে বির্তকিত ফলাফল ঘোষনায় মাত্র ১৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তবে সুজনকে প্রার্থী করার ঘোষণায় তিনি বিরোধীতা করে তদ্বির-লবিং-গ্রুপিং ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। দলীয় মনোনয়ন তাকে দেয়া না হলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।তানোর পৌর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে দলীয়কোন্দল ও মতবিরোধ সৃস্টির মুল কারণ সুজন। এসব বিবেচনায় সুজনের বিষয়ে শতর্ক না হলে আগামীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অসনি সঙ্কেত অপেক্ষা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌর আওয়ামী যুলীগের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, সুজনকে মনোনয়ন দেয়া হলে আমরাও দেখতে চাই আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বা শক্তি বেশী না হঠাৎ ফুঁলেফেঁপে উঠা এসব হাইব্রিডদের জনপ্রিয়তা বেশী।তিনি বলেন,এসব কালো টাকার মালিকদের দুর্বৃত্তায়নের কারণে মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নস্ট চলেছে। এব্যাপারে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী বলেন, তানোর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের অনেক যোগ্য নেতা থাকার পরেও এমপি কেনো বহিরাগত সুজনকে প্রার্থী করতে চাই সেটা আমাদের বোধগম্য নয়।তিনি বলেন,তানোর পৌরসভার মানুষ বহিরাগত প্রার্থীকে কখানোই মেনে নিবেন না। এব্যাপারে আবুল বাসার সুজন বলেন, তার বিরুদ্ধে উঙ্খাপিত অভিযোগ সঠিক নয় ভিত্তিহীন।তিনি বলেন, এমপি মহোদয় তাকে মাঠে থাকতে বলেছেন মনোনয়ন দেয়া না দেয়া এটা দলের বিষয়, দল তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি প্রার্থী হবেন না দিলে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন।