আব্দুল আলীম প্রামানিক, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃবর্ষা শেষ হতে না হতেই গঙ্গাচড়ায় তিস্তায় জেগে উঠেছে চর। কমে এসেছে পানিপ্রবাহ। ক্ষীণও হয়েছে একই সঙ্গে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে অসংখ্য ডুবোচর দেখতে পাওয়া যায় এই তিস্তায়। সরেজমিনে জানা যায়, তিস্তার পানিপ্রবাহ পরিবর্তনের লক্ষ্যে গত বছর চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ড্রেজিং করা হয়। কিন্তু ভরাট হয়ে গেছে ক্যানেল। কৃষকরা এখন আলু, কুমড়া, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করছেন সেখানে। একসময় দূরদূরান্ত থেকে নৌপথে ব্যবসায়ীরা আসতেন বাণিজ্য করার জন্য। সেই সঙ্গে তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে সহজেই দুকূল ছেপে বন্যা আসে। তাছাড়া পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে নদীতে মাছ ধরে যারা জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারা আজ অসহায়। সরেজমিনে আরো জানা যায়, গত ২৫ দিন আগের সেই তিস্তা আর নেই। মূল শেখ হাসিনা তিস্তা সেতুর (৮৫০ মিটার দীর্ঘ) চার ভাগের এক অংশ দিয়ে ক্ষীণধারায় পানিপ্রবাহ হচ্ছে। বাকি তিন ভাগ শুকিয়ে গেছে।
গত সোমবার তিস্তার চরে কাজ শেষে হেঁটে নদী পার হয়ে আসেন ল²ীটারী ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন (৫২), মতিবর রহমান (৪৫)। এ সময় জয়নাল আবেদীন জানান, তিস্তায় এখন হাঁটুপানি। পায়ে হেঁটে পার হাওয়া যায় সহজেই। পানির অভাবে ঠিকমতো চাষবাস হয় না। মহিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল সাজু বলেন, আগের মতো নদীত পানি নেই। শ্যালো দিয়ে পানি সেচ দেওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বলেন, শুকনো মৌসুমে তিস্তার অবস্থা করুণ। নদীর ড্র্রেজিং করলেও কোনো কাজ হয়নি। আবারও ড্রেজিং করতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীশাসন করলে তিস্তা কূলবর্তী অনেক কৃষক সেচ সুবিধা পেতেন।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, এ বছর তিস্তার চার কিলোমিটার অংশ ড্রেজিং করা হয়। তবে অনেকটা ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে নতুন পরিকল্পনা হিসেবে তিস্তার চরা লকে বালুমহাল ঘোষণা করা হবে। টেন্ডারের মাধ্যমে তিস্তার বালু বিক্রি করা হবে। এতে নদীর ড্রেজিংও হবে সেইসঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও হবে।