তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃরাজশাহীর তানোরের মুন্ডুমালা পৌরসভায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের সমর্থন  আদায় ও ভোটারদের নজর কাড়তে বিভিন্ন কৌশলে শুরু করেছে জম্পেশ প্রচারণা। এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদার,  নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা এবং নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে কর্মীসভা-বর্ধিতসভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসুচি গ্রহণ করেছেন। আওয়ামী লীগ এবার প্রার্থী নয় নৌকার জনসমর্থন৷ বৃদ্ধি এবং  তৃণমুল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় করাকেই বেশী গুরুত্ব দিয়েছে। তবে এখানো বিএনপির সাংগঠিনক  তেমন কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।জানা গেছে, মুন্ডুমালা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ৫ বারের নির্বাচিত  কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র আমির হোসেন আমিন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শরিফ খাঁন, উপজেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক এ্যাডঃ সাজেমান আলী, প্রচার সম্পাদক আহসানুল হক স্বপন, ও আরিফ রায়হান তপন প্রমুখ মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে মাঠে নেমেছেন। তবে বর্তমান মেয়র গোলাম রাব্বানী এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী তাই তিনি পৌরসভা নির্বাচন করবেন না বলে শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে মুন্ডুমালা পৌর বিএনপির একাংশের সভাপতি মোজাম্মেল হক, ফিরোজ কবির এবং জামায়াত নেতা জামিলুর রহমানের নাম শোনা গেলেও এদের কেউ মাঠে নাই।এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা ও জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন কাউন্সিলর আমিন। নৌকার টিকেট পেলেই তিনি বিজয়ী হবেন নিশ্চিত বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। স্থানীয়রা বলছে,  পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ভোট করতে যে ধরণের আর্থিক স্বচ্ছলতা, জনসমর্থন ও কর্মী বাহিনী প্রয়োজন সেটা কেবলমাত্র প্যানেল মেয়র আমিনেরই  রয়েছে, সেই বিবেচনায় বাকিরা ডামি প্রার্থী। অধিকাংশক্ষেত্রে অনেকে অবৈধ সুবিধা আদায়ের  জন্যই প্রার্থী হবার ঘোষনা দিয়েছে, অথচ তারা মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও কাউন্সিলর নির্বাচিত হবার  মতো সক্ষমতা নাই। তবে  নির্বাচনের মাঠে বগী আওয়াজ তুলে স্বার্থ হাসিলের চেস্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে তৃণমুল। এসব বিবেচনায় শুভ বার্তার অপেক্ষায় রয়েছেন আমিন অনুসারী নেতাকর্মীরা। ফলে মুন্ডুমালাপৌর নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কাউন্সিলর আমিন। আমিনের প্রচারণায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নব দিগন্তের সুচনা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ এবার মনোনয়ন নয় গুরুত্ব দিচ্ছেন সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদার করায়। যদিও  সবকিছু নির্ভর করছে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী ও উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নার ওপর। কারণ মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনে জয়-পরাজয় এই দুই রাজনৈতিক রথী-মহারথীর ওপর অনেকটা নির্ভর করছে, তারা যাকে সমর্থন করবেন তিনিই বিজয়ী হবেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।স্থানীয়রা জানান,মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আমির হোসেন আমিনকে “পৌর পিতা” হিসেবে দেখতে চাই পৌর-সেবা থেকে বঞ্চিত, নিপিড়ীত, লাঞ্চিত, উপেক্ষিত ও অবহেলিত জনপদের (মুন্ডুমালা)  বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। আমিন হোসেন (তৎকালীন) বাঁধাইড় ইউনিয়ন পরিষদ ইউপির বৃহতম ওয়ার্ডে পর পর দুই বার ইউপি সদস্য ও মুণ্ডুমালা পৌরসভায় বৃহৎতম ওয়ার্ড থেকে পর পর   তিন বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং প্যানেল মেয়র। অর্থাৎ তিনি একটানা প্রায় ২৫ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে সততা ও  ন্যায়-নিষ্ঠার সঙ্গে নিরলস ভাবে (দায়িত্ব পালন) জনসেবা করে  আসছেন। পৌরবাসীর অভিমত, পৌর এলাকায় আমিনের জনপ্রিয়তা বর্তমান মেয়র গোলাম রাব্বানী ও তার ঘনিষ্ঠ সহচর সাইদুর রহমানের থেকে অনেক বেশী। যে কারণে তাদের নেপথ্যে মদদে মেয়র পন্থী বলে পরিচিত বিএনপি-জামাত অনুগত একশ্রেণীর জনবিচ্ছিন্ন বিতর্কিতরা আমিনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।  স্থানীয় সুত্রের ভাষ্য,  আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী  ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, আপমর জনগোষ্ঠী এবং পৌর এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া গরীব-দুঃখী অসহায় মানুষ  চাই না আর কোনো রাজনৈতিক বেঈমান-বিশ্বাসঘাতক মিরজাফর, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পুত্র এবং খন্দকার মোস্তাকের প্রেতাত্ত্বা অনুসারী নেতৃত্বে  এসে পৌরসভাকে কুলষিত করুক। তারা আর চাই না সেই নেতৃত্ব  যেই নেতৃত্ব মেয়রের চেয়ারে বসে নিজ পৌরসভাকে উন্নয়ন বঞ্চিত রেখে  কন্দপুর, মালশিরা, ছাঐড় এবং গোদাগাড়ীর ললিতনগর, আইহাইরাহী, কাঁকনহাট ইত্যাদি এলাকায় লোক দেখানো উন্নয়নের নামে নিজের স্বার্থ হাসিলে পৌরসভার অর্থ লোপাট করুক। তারা বলেন, অনেক দেখেছি একটি বার আমিনকে মেয়র করে দেখা যাক কি হয়।#