আওয়ামী লীগ কারো দয়া কিংবা করুণা ভিক্ষা করে ক্ষমতায় টিকে নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শেকড় তৃণমূলের অনেক গভীরে প্রোথিত। এজন্য সংগঠনের ক্ষতি কেউ করতে পারেনি। কারণ আওয়ামী লীগ টিকে আছে তৃণমূল নেতাকর্মী অর্থাৎ তার শেকড়ের শক্তি দিয়ে। সেটা যদি কারো চক্ষুশূল বা মনোব্যথা হয়, আমাদের কিছু বলার নেই। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে ডিজিটাল পদ্ধতি ও বেসরকারি চ্যানেলগুলো আওয়ামী লীগই প্রতিষ্ঠা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেলিভিশন-ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনেকেই নানা কথা নানাভাবে বলার চেষ্টা করছেন এখন। অনেকে বলতে চাইছেন, বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, প্রকৃতপক্ষে তৃণমূল থেকে গড়ে ওঠা দল হলো আওয়ামী লীগ। যে দল মানুষের অধিকার এমনকি মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে। যে দলের নেতাকর্মীদের একের পর এক হত্যা করা হয়েছে। আমাদের ওপর তো বার বার হামলা হয়েছে। এত হত্যাকাণ্ডের পরও যে সংগঠনটা তৃণমূল থেকে এতো শক্তিশালী, সেই দলের তারা কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। তৃণমূলের মানুষের ভালোবাসা আর সমর্থনেই এই দল টিকে আছে। আর এই শক্তি যদি কারো চক্ষুশূল হয়, তাহলে আর কিছু বলার নেই। একটা কথা বলতে চাই, আওয়ামী লীগ কারো দয়া কিংবা করুণা ভিক্ষা করে ক্ষমতায় টিকে নেই।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় এসে মানুষের কল্যাণে কাজ করা হয় বলেই, আওয়ামী লীগকে মানুষ সমর্থন দিয়ে যায় বার বার জয়ী করেছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে একটা গ্রুপই বা এলিট শ্রেণি সুবিধা পায় না। বরং সুবিধাটা গ্রাম পর্যায়ে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়।

তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে তাদের কল্যাণে ও দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে। যদি শহীদের তালিকা দেখেন, দেশের জন্য একটি দল (আওয়ামী লীগের) হিসেবে এত জীবন অন্য কেউ দেয়নি। জাতির পিতাকে হত্যার পর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধ্বংস করা হয়েছে অপরাজনীতির মাধ্যমে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নষ্ট করা, ইতিহাস বিকৃত করা, সন্ত্রাস আর লুটপাটের মাধ্যমে দেশকে পিছিয়ে দেয়ার রাজনীতি করেছিল জিয়াউর রহমানসহ খুনিদের দোসররা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করলেও, তা বন্ধ করে দিয়েছিল জিয়াউর রহমান। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে, পুরস্কৃত করেছিলো খুনিচক্র। সে সময় যারা সত্যিকারের রাজনৈতিক নেতা ছিল, তাদের ওপর স্টিম রোলার চালিয়ে জিয়াউর রহমান খুনিদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। মূলত একটা দেশকে সম্পূর্ণ আদর্শ থেকে বিচ্যুত করার সব চেষ্টাই করেছিল জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, সে সময় অনেকেই জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছে বলে, তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে তার সাথে দলে ভিড়েছিল। কিন্তু তারা কী একবারও ভেবে দেখেছিলেন যে, অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় বসে, তারা কিন্তু গণতন্ত্র দিতে পারে নি। কিছু দলকে রাজনীতি করতে দিলেই সেটা গণতন্ত্র হয়ে যায় না। তাই যদি হতো, তাহলে দেশ তো অনেক এগিয়ে যেতো!

শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও খালেদা জিয়া তারা একের পর এক ক্ষমতায় এসে তাদের মূল লক্ষ্য ছিল দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, হত্যা, কর্ম এসব করে সারা দেশে একটা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে, সংঘাত সৃষ্টি করে ক্ষমতায় টিকে থাকা।

আজকে যারা ভোট নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের কাছে পাল্টা প্রশ্ন করে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জিয়া অথবা এরশাদের ভোট আপনারা দেখুন। আওয়ামী লীগ সবসময়ই নির্বাচনমুখী দল ছিল। সেখানে আমরা কী চেহারা দেখেছি। সেখানে তো আমরা জনগণ দেখিনি। তখন তো কথাই ছিল, দশটা গুন্ডা, বিশটা হোন্ডা, নির্বাচন ঠাণ্ডা। এটাই তো ছিল তখনকার বাস্তবতা।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, একটা দল যে জনগণের জন্য কাজ করে। সেটা দেশে আওয়ামী লীগই প্রথম বারের মতো প্রমাণ করেছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমরা জনগণের জন্য কাজ করি বলেই, বার বার জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে। যারা ভোটের জন্য জনগণের কাছে যেতেই পারে না। যাদের সংগঠনই তৃণমূল থেকে গড়ে ওঠেনি। তারা মানুষকে কী দেবে! মানুষ তাদের পাশে দাঁড়াবে কেনো?’

সমালোচনাকারীদের শেখ হাসিনা ৩ নভেম্বরের নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘ষড়যন্ত্র করে খুন করে ফেলা যায়। কিন্তু জনসমর্থন না থাকলে, কেউ ক্ষমতায় যেয়ে টিকে থাকতেও পারে না, মানুষের কল্যাণও করতে পারে না। জেলখানার মতো সুরক্ষিত জায়গায় খুনিদের কে অনুমতি দিয়েছিল হত্যার, কে হুকুম দিয়েছিল হত্যার। সেটি কী একবারও ভেবে দেখেছেন, অপপ্রচারকারীরা!