নাদিম আহমেদ অনিক, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চলছে ধান কাটার ধূম। চলতি আমন মৌসুমে বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে অবাক হাঁসি। ইতিমধ্যেই উপজেলার প্রায় ৩শত ৫০হেক্টর জমির আমন ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা কয়েক দফার বন্যার ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলমি আমন মৌসুমে উপজেলার মোট ১৮হাজার ১শত ৪০হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। আমন ধান রোপনের কিছুদিন পরই হানা দেয় ৪বারের বন্যা। এতে করে কিছুটা ক্ষতি হয় নিম্মা লের আমন ধান। কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা যে সকল কৃষকরা ব্রি ধান-৮৭ জাতের ধান চাষ করেছিলেন তারা ইতিমধ্যেই ধান কর্তন করা শুরু করেছেন। বিঘা প্রতি কৃষকরা ব্রি ধান-৮৭ এর ফলন পাচ্ছেন ১৮-২০মণ হারে। কারণ এই জাতটি আগাম পরিপক্ক ধানের জাত। এই জাতের ধানে রোগবালাইয়ের আক্রমণ অনেক কম, বালাইনাশক প্রয়োগ করতে হয় কম এবং ফলনও অনেক বেশি হয়। যার কারণে কৃষকরা এই জাতের ধান কেটে ওই জমিতে সরিষা, গমসহ অন্যান্য সবজি চাষ করতে পারবেন। তাই আশা করা হচ্ছে কৃষকরা আমন ধানের বাম্পার ফলন থেকে বন্যার ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন আমন ধান রোপনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ প্রদানসহ সার্বিক সহযোগিতা ও খোঁজখবর নিচ্ছে কৃষি অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যার কারণে এবার আমন ক্ষেতে কোথাও কোন ক্ষতিকর পোকা ও রোগের আক্রমণ দেখা যায়নি। উপজেলার সকল কৃষকদের ঘরে আমন ধান পুরোপুরি না ওঠা পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ইতিমধ্যেই নমুনা শস্য কর্তন করে কৃষকদের ধান কাটতে উদ্বুদ্ধ করেছি। চলতি আমন মৌসুমে কৃষকরা বাম্পার ফলন পাবেন। এতে করে আমন ধানের লভ্যাংশ থেকে কৃষকরা বন্যার ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আমি আশাবাদি। কারণ বর্তমানে বাজারে ধানের দামও অনেকটাই ভালো আছে।