তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বহীন সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের সমালোচনার সৃস্টি হয়েছে, বইছে মুখরুচোক গুঞ্জন। দলের দায়িত্বশীল পদে থাকতে এরা কোনো দায়িত্বই পালন করেনি,ফলে বাধ্য হয়ে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ভারপ্রাপ্তদের হাতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।ভারপ্রাপ্তরা যখন সংগঠনকে চাঙ্গা করতে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন, ঠিক  তখানোই এরা আওয়ামী লীগে দলীয় কোন্দল সৃস্টি করতে নানা অপতৎপরতা শুরু করেছে। স্থানীয়রা বলছে এদের অপতৎপরতা গাঁয়ে মানে না আমি মোড়ল সেই প্রবাদ বচনকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরের ৩রা নভেম্বর আওয়ামী লীগের ব্যানারে তারা তানোর পৌরসভার হরিদেবপুর গ্রামে জাতীয় জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা আয়োজন করে। তবে তাদের আলোচনা সভায় উপজেলা-পৌরসভা বা ইউনিয়ন কমিটির দায়িত্বশীল তেমন কোনোনেতা ছিলেন না, তাহলে এটা আওয়ামী লীগের কর্মসুচি হয় কি বিবেচনায় সেখানে কর্মী বলে উপস্থিত ছিল তারা কারা-? যার সিংহভাগ জামায়াত-বিএনপি মতাদর্শীএদিকে জাতীয় জেল হত্যা দিবসের নামে আয়োজিত আলোচনা সভায় জেল হত্যা দিবস সম্পর্কে কোনো আলোচনা না করে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা-ভিত্তিহীন,বানোয়াট ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে পুরো আয়োজন জুড়েই গীবত চর্চা করা হয়। এখবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগের আদর্শিক নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে মুখরুচোক নানা গুন্জনের পাশাপাশি জনমনেও মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় উঠে তীব্র সমালোচনার ঝড়। অথচ তারা আদর্শিক দাবি করে এই তাদের আদর্শের নমুনা জেল হত্যা দিবসের আলোচনার নামে দলীয় এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গীবত করা। সত্যি যদি তারা আওয়ামী লীগের আদর্শিক হয় তাহলে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরে নৌকার পক্ষে জনমত গড়তে কাজ করুক তাদের তো কেউ বাধা দিচ্ছে না।

দলীয় সুত্রে জানা গেছে, দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে দায়িত্ব অবহেলা ও সংগঠন পরিপন্থী কর্মকান্ডের অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সিনিয়র সহসভাপতি খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে যুগ্ম-সম্পাদক রাম কমল সাহাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের ব্যানারে তারা কোনো কর্মসুচি দিতে পারেন না। কিন্ত্ত পৌরসভা নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে তারা দলীয়কোন্দল সৃস্টি ও জামায়াত-বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ফের অপ তৎপরতা শুরু করেছে, এরই অংশ হিসেবে তানোর পৌর মেয়রের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় তারা ওই কথিত আলোচনা সভা ও দোয়া আয়োজন করেছেন বলে তৃণমুলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ তুলেছে।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আওয়ামী লীগের ব্যানারে কথিত আলোচনা সভা ও দোয়া আয়োজন করা হলেও সেখানে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল তেমন কোনো নেতৃত্ব ছিল না, উপস্থিতদের সিংহভাগ ছিল জামায়াত-বিএনপি ও হাতুড়ী প্রতিকের মতাদর্শী। তারা আরো বলেন, আলোচনা ও দোয়ার পরিবর্তে বক্তারা স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী এবং উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে, যাকে বলে রীতিমত গীবত চর্চা। অন্যদিকে তারা আওয়ামী লীগের কর্মসুচি দাবি করলেও সেখানে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল তেমন কোনো নেতাকর্মী না থাকায় তাদের কথিত কর্মসুচি নিয়ে জনমনে নানা সন্দেহ ও উদ্বেগের সৃস্টি করেছে। কারণ এদিন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিসরে পৌরসভার তালন্দ বাজারে দিনব্যাপী নানা কর্মসুচি পালন করা হয়েছে। এসব কর্মসুচিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সম্পাদক,  উপজেলা চেয়ারম্যান, দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন পরিষদ ইউপির সভাপতি-সম্পাদকসহ প্রতিটি কমিটির সাংগঠনিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।তাহলে দায়িত্বহীনরা কোন মুখে বলেন তাদের টা আওয়ামী লীগের কর্মসুচি, তারা যদি আওয়ামী হয়, তাহলে যেখানে উপজেলা, পৌরসভা ও  ইউপি কমিটির দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন তারা কারা। আসলে পদপদবী হারিয়ে তারা বগী (আক্যাম্যা) নেতায় পরিণত হওয়ায় তাদের গ্যান-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে বলে মনে করছেন তৃণমুল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যনকে নিয়ে তাদের গীবত করার খবর ছড়িয়ে পড়লে নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে পরিস্থিতি বে-গতিক বুঝতে পেরেই তড়িঘড়ি কর্মসুচি সমাপ্ত ঘোষণা দিয়ে তারা দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়ে। এব্যপারে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপাপ্ত সভাপতি খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরী বলেন, রাব্বানী ও মামুন এখন আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসুচি ঘোষণা করতে পারেন না, অনেক আগেই তারা আওয়ামী লীগের ট্রেন থেকে পড়ে গেছে।তিনি বলেন, নির্বাচনের মৌসুম এলেই তারা নানা কৌশলে জামায়াত-বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাদের বি-টিম হয়ে কাজ করে এটা নতুন নয়। তবে এবার জনগণ তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিবেন। এবিষয়ে যুবলীগ নেতা আফজাল হোসেন বলেন, এখন সময় এসেছে যারা নৌকায় থেকে নৌকা ফুঁটো করতে চাই তাদের চিহ্নিত করে গণধোলাই করা