গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা ) প্রতিনিধি ঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যা,অগ্নি সংযোগ,লুটপাট ভাংচুর,নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ৬ নভেম্বর ২০১৬ সালে বাংঙ্গালি আদিবাসী সাওতাল সম্প্রদায়ের উপর নির্মম নির্যাতন হত্যা ও লুটপাটে দ্রুত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল গোবিন্দগঞ্জ শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিন শেষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন যাদের কে হত্যা করা হয়েছিল ঐ সকল হত্যা কারীদের দ্রুত বিচার আইনে বিচার কার্যকর করতে হবে এবং আমাদের জমি আমাদের ফেরত দিতে হবে। সমাবেশে ৭দফা দাবি করেন দফা ১/ গোবিন্দগঞ্জ সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম-এর রিক্যুইজিশন করা ১৮৪২.৩০ একর সম্পত্তি আদিবাসীদের ফেরত দিতে হবে। দফা ২/ আদিবাসীদের সম্পত্তি কোন সরকার/কতৃপক্ষ কতৃক রিক্যুইজিশন করা এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ায় এ ধরনের কার্য বাতিল ও পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করে আদিবাসীদের সম্পত্তি ফেরত দিতে হবে।দফা ৩/ আদিবাসী সাঁওতাল পল্লীতে ভাংচু,অগ্নি সংযোগ,লুটপাট এবং গুলি করে নিহত ও গুরুতর আহত করার সাথে জরিত উস্কানীদাতা ও সন্ত্রাসীদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি এবং নিহত ও আহতদের জন্য ক্ষতি পুরন দিতে হবে।

দফা ৪/ ৬ নভেম্বর ২০১৬ তারিখের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ আদিবাসী বাঙ্গালিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আদিবাসী -বাঙ্গালি নারী- পুরুষের উপর স্থায়ী সন্ত্রাসীদের জুলুম ও পুলিশী হয়রানী বন্ধ করতে হবে। দফা ৫/ ১৯৪৮ সালের মোতাবেক যে কার্যের জন্য (ইক্ষুচাষ) গ্রহন হয় তা না করা হলে খেসারতসহ পূর্বমালিক আদিবাসীদের ফেরতের বিধান বাস্তবায়ন করতে হবে। দফা ৬/আদিবাসী সাওতালদের বাড়িঘরে অগ্নি সংযোগকারী চিহ্নিত পুলিশ কর্মকর্তাসহ জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। দফা ৭ / ২০০৪ সালে সুগার মিল বন্ধের পর প্রভাবশালীদের মাঝে লিজের নামে যে অর্থআত্মসাৎ ও দূর্নীতি হয়েছে সেই দূর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির ডাঃ ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিরাজুল ইসলাম (বাবু) আহবায়ক আদিবাসী সংহতি পরিষদ, মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি, রেবেকা শরেন সভাপতি বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন,মহসিন রেজা সভাপতি নওগা জেলা শাখা,বুলবুল আহম্মদ, জিয়াউর রহমান জিয়া, সভাপতি রংপুর জেলা সংসদ বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, রবিন্দ্রনাথ সরেন,বাবুল অধিকারসহ আরোও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তি।