ডেস্ক নিউজঃধানের শীষের গণজোয়ারে ভীত হয়ে আওয়ামী লীগ, নির্বাচন কমিশন ও লোকাল প্রশাসন মিলে আগামী ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে চায় বলে আশংকা প্রকাশ করে বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমরা এটা হতে দেব না। জণগণের ভোটাধিকার রক্ষা করেই ঘরে ফিরব। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে কেন্দ্র থাকব। এবারও তারা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো ভোটবিহীন ভোটে নির্বাচিত করতে চায়।

সোমবার (৯ নভেম্বর) নির্বাচনী গণসংযোগ শুরুর আগে ৯ নম্বর সেক্টরের হোয়াইট প্লাজ হোটের সামনে সংক্ষিপ্ত পথসভায় ধানের শীষের এই প্রার্থী আরো বলেন, গত ২৪ অক্টোবর থেকে এই আসনের নির্বাচনী প্রচার শুরু হযেছে। এরপর থেকে পুলিশের পুলিশের অনুমতি নিয়ে যেখানেই কর্মসূচি দেই, সেখানেই সংঘাত বাধাতে সেখানে আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি দেয়। আমাদের ধানের শীষের গণজোয়ার দেখে আমাদের মিছিলে হামলা করেছে, মামলা করেছে। এমনকি আমাদের মহিলা কর্মীরা প্রচারে গেলেও তাদের বাধা দেয়া হয়। আপনারা জানেন, এই ঢাকা-১৮ আসনে জনগণ দির্ঘদিন গণসংযোগ থেকে উপেক্ষিত, ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। আমরা বিশ্বাস করি আগামী ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনের সকল ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাবেন এবং ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিবে।

তিনি বলেন, এখানে যত অনিয়ম হচ্ছে, সন্ত্রাস হচ্ছে প্রশাসন কোনো সহযোগিতা করছে না। নির্বাচন কমিশনও কোনো সহযোগিতা করছে না। আমরা বার বার নির্বাচন কমিশনের জানিয়েছি। আমরা যখন থানায় যোগাযোগ করি তখন তারা উপরের কথা বলে। আমরা উপর বলতেতো নির্বাচন কমিশনকে বুঝি। নির্বাচনের সময় সব কিছুইতো নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে। সিইসি ও স্থানীয় প্রশাসন একত্রিত হয়ে ওই আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করছে।

তিনি আরো বলেন, তারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো ভোটারবিহীন নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। যেভাবে ২০১৮ সালে আমাদের সবার নামে নজিরবিহীনভাবে গায়েবি মামলা দিয়েছে ঠিক সেভাবে গায়েবি মামলা দেয়া হচ্ছে। ভোট কেন্দ্রে ভোটাররা যাবে না, কেউ থাকতে পারবে না সেটা ঢাকা-১৮ আসনে হবে না। গণতন্ত্রেও জন্য, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে প্রয়োজনে নিজের রক্ত দেব এরপর জনগণকে সাথে নিয়ে সকল অনিয়ম মোকাবেলা করবো।

নির্বাচনী পথসভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, এই নির্বাচন আমরা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেব না। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের ভেতরে আমাদের পোলিং এজেন্ট থাকবে, নেতাকর্মীরা কেন্দ্রে বাইরে থাকবেন। কোনো ধরণের অনিয়ম করার চেষ্টা করলে তা প্রতিরোধ করা হবে। যদি ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয় তাহলে এখান থেকেই সরকার পতন আন্দোলন শুরু হবে।

বক্তব্য শেষ করে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন সড়ক ও ৫০ নম্বর ওয়ার্ড, এয়ারপোর্ট, জসীমউদ্দিন এলাকায় গণসংযোগ করেন ধানের শীষের প্রার্থী। এ সময় বিএনপি প্রার্থীর সাথে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এস এম জাহাঙ্গীরের সাথে ছিলেন আরো ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বনির্ভর বিষয় সম্পাদক শিরীন সুলতানা, বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, আমিনুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, রফিক শিকদার, সালাউদ্দিন ভূইয়া শিশির, আকরামুল হাসান, কাজী আবুল বাশার, বজলুল বাছিত আনজু প্রমুখ।