এস.এ বিপ্লব ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি- নওগাঁর বদলগাছীতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি গ্যাং কে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন, মোঃ আজম মন্ডলের ছেলে মোঃ মিশু মন্ডল (১৯), মোছাঃ পিংকি বেগম (৩০) স্বামী মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোঃ হুজাইফা (১৪) পিতা মোঃ কালাম হোসেন, তারা প্রত্যেকে নওগাঁর বদলগাছীর পূর্ব খাদাইলের বাসিন্দা এবং মোঃ সাজু আহম্মেদ ওরফে সবুজ (১৪) পিতা মোঃ মিলন হোসেন বদলগাছীর চকতাহের এর বাসিন্দা।

আসামী পিংকি বেগম মোবাইলে কথা বলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নির্জন স্থানে কাওকে ডেকে এনে পরে মিশু মন্ডল, হুজাইফা এবং সাজু মিলে তাকে অজ্ঞান করে গোপন স্থানে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করা ছিলো আসামীদের ভূমিকা। তাদের ফাঁদে পা দেয় বদলগাছীর পূর্ব খাদাইল গ্রামের মোঃ নাজমুল হোসেন (১৪)। যথারীতি তাকে ৬ নভেম্বর বিকেলে ফোনে নির্জন স্খানে ডেকে নেন আসামী পিংকি বেগম। সেখানে আগে থেকেই ওৎপেতে ছিল শিশু অপরাধী হুজাইফা এবং সাজু। তারা তিনজন মিলে ভিকটিম নাজমুলকে অজ্ঞান করার জন্য আম গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করলে নাজমুল মারা যান। পরে নাজমুলের মৃতদেহ গোপন করার জন্য তাকে বস্তাবন্দী করে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের কেসের মোড়ের পশ্চিম বেলা রেলগেটের উত্তর পার্শ্বে পতিত জমিতে পানির মধ্যে ফেলে রাখে। পরে ৭নভেম্বর সকালে ফোন দিয়ে নাজমুলের মুক্তিপণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা দাবী করে অপহরণকারীরা।
পরে থানায় এজাহার দায়ের করেন নাজমুলের পরিবার।

নওগাঁর পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া বিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রসাশন) মোঃ রকিবুল আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মোহাদেবপুরে সার্কেল) আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় বদলগাছী থানা পুলিশ নাজমুল হোসেন কে উদ্ধারের জন্য প্রযুক্তির সহায়তা ও ব্যাপক তৎপরতা আরম্ভ করে। অক্লান্ত পরিশ্রমে তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করে নাজমুলের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
অপহরণপূর্বক মুক্তিপণ দাবি ও হত্যা চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার পূর্বক ১৯ নভেম্বর আদালতে প্রেরণ করে।এবং ২০নভেম্বর আসামী বিশু মণ্ডল বিজ্ঞ আদালতে নিজেকে ঘটনার সাথে জড়িয়ে অপরাধের উপরে উল্লেখিত আসামিদের নাম প্রকাশ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন

রবিবার (২২ নভেম্বর) বেলা ১২ টায় এক প্রেস রিলিজ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নওগাঁর পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া বিপিএম এমন তথ্যের পাশাপাশি বলেন, এই উদীয়মান গ্যাং এর প্রত্যেককে আটক করে আদালতে প্রেরণ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। তিনি আরও বলেন, আসামীদের অপহরণ কাজে ব্যাবহৃত মোবাইল ফোন, সীম কার্ড, আম গাছের ডাল ও বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে।