গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। এলাকার যুবসমাজ সহজেই মাদকদ্রব্য পাওয়ার কারণে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তারা নানা অপরাধ কর্মকাÐে জড়িয়ে পড়ছে।
উত্তরা লের প্রবেশ দ্বার হিসেবে পরিচিত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বাংলা হিলি সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিদিন প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ব্যাপকহারে মাদকদ্রব্য আসছে। মাদকের সহজলভ্যতায় এখানকার যুবসমাজ নেশায় ডুবে অকালে মৃত্যুবরণ করছে। ফলে নেশার টাকা যোগান দিতে এসব অপরাধম‚লক কর্মকাÐ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রশাসনের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশে গোবিন্দগঞ্জকে মাদকের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছে। মাঝেমধ্যে পুলিশ লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে দু-চারজনকে গ্রেপ্তার করলেও ম‚ল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। কখনও কখনও মাদকসেবীকে ব্যবসায়ী বানিয়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন মাদক কারবারি জানান, পুলিশকে ম্যানেজ করেই তারা ব্যবসা করে থাকেন। এজন্য তাদের প্রতি মাসে বিশাল অঙ্কের টাকা পুলিশের হাতে তুলে দিতে হয়। হিলি থেকে শুরু করে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত এসব মাদক আনতে ঘাটে ঘাটে মাসোহারা দিতে হয়। মাসোহারা না দিলেই পুলিশ গ্রেপ্তার বাণিজ্য শুরু করে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পৌর শহরের ঘোষপাড়া, পান্থাপাড়া, গোরস্তানপাড়া, গোবিন্দপুর, কুঠিবাড়ি, বটতলী, হাসপাতাল মোড়, হীরকপাড়া, প্রধানপাড়া, শিল্পপাড়াসহ অর্ধশতাধিক স্থানে মাদকের অবাধ কেনাবেচা চলে। এ ছাড়া উপজেলার ফাসিতলা, মহিমাগঞ্জ, নাকাইহাট, পানিতলা, ফুলপুকুরিয়া, রাজাবিরাট কামদিয়া, বাগদা বাজার, কালিতলা, পোড়াদহ, হরিতলা বাজার, কোমরপুর, অভিরামপুর, জামালপুর, বালুয়া, কোচাশহর, চাঁদপাড়ায় মাদকের হাটবাজার বসার অভিযোগ রয়েছে। মাদকের মহাসমারোহ চললেও এখানকার পুলিশ শুধু মাদক নির্ম‚লের ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত। অনেক সময় পুলিশ জামিনযোগ্য ধারায় মামলা দিয়ে জেল থেকে বেড় হওয়ার সুযোগ করে দেয় মাদক ব্যবসায়ীদের। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ছয় মাসে গোবিন্দগঞ্জ থানায় প্রায় অর্ধশতাধিক মাদক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৫০/৬০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যরা পলাতক। অনেকেই আবার জামিনে বেরিয়ে এসেছে।ভুক্তভোগী অভিভাবকরা জানান, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় অবাধে মাদক আসছে। আর মাদকের সহজলভ্যতার কারণেই ছেলেমেয়েরা মাদকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।
এব্যাপারে বুধবার সকাল সোয়া ১১টায় গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনর্চাস ও ওসি (তদন্ত)এর মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।