ডা: মো: হাফিজুর রহমান (পান্না), রাজশাহী :

রাজশাহীতে প্রতারণার ফাঁদে পাবনার তিন ব্যাটারী ব্যবসায়ী, সীমানা জটিলতার অজুহাতে বারবার অপরাধ সংঘটিত হবার স্থান পরিদর্শন করেও অভিযোগ নেননি বোয়ালিয়া ও রাজপাড়া থানা পুলিশ।’প্রতিষ্ঠানের নাম সোনার বাংলা ব্যাটারী বাজার, পাবনার বাংলা বাজার এলাকার এই প্রতিষ্ঠানটি পুরাতন অটো রিক্সার ব্যাটারী ক্রয় বিক্রয় করে থাকে। সেই সুবাদে রাজশাহীর একটি চক্র পুরোনো ব্যাটারী বিক্রির কথা বলে গত রবিবার তাদের পাবনা থেকে আসতে বলে রাজশাহী সাহেব বাজারে। কথা ছিলো ১৪ লাখ ৬২ হাজার ৮০০ টাকার ব্যাটারী বিক্রি করবে চক্রটি।

সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটর সুমন আলী , আজাদ শেখ ও মিরাজুল ইসলাম একটি ট্রাক নিয়ে রাজশাহীতে আসেন। চক্রটি তাদের সাহেব বাজারে অবস্থিত উত্তরা ব্যাংক শাখার একটি অ্যাকাউন্ট নম্বরে টাকা জমা দিতে বলে। অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নাম সাবানা বেগম। তারা মাল বুঝে না নিয়ে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের তেরখাদিয়া খ্রিষ্টান পাড়ায় যেতে বলা হয়। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মিরাজুল ইসলাম ও তাদের ট্রাক ড্রাইভারকে কয়েরদাঁড়া বিলপাড়া লেকসিটির রাস্তা ধরে ভেতরে যেতে বলা হয়। জানানো হয় সেখানেই তাদের ব্যাটারীর গুদাম রয়েছে। তারা দুজন সেখানে গেলে সিটি হাট বাইপাসের পূর্ব দিকে কৃষি জমি দেখিয়ে ৫ জন তাদের একটি বাগানের দিকে নিয়ে যান। প্রোপাইটার আজাদ শেখ জানান, বাগানে নেয়ার পর আরও কয়েক প্রতারক যোগ দিয়ে মোট ৮ থেকে ১০ জন তাদের অস্ত্র ঠেকিয়ে সঙ্গে নিয়ে আসা টাকা দিয়ে যেতে বলে। এসময় জোর করে তারা বেশ কিছু টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং চুক্তিকৃত সব টাকা নিয়ে আসার জন্য আজাদ শেখের কাছে ফোন দেয়। বিষয়টি আজাদ শেখ আঁচ করতে পেরে আর কোন টাকা দেননি। এবার মিরাজুল ইসলাম ও তার ট্রাক ড্রাইভারকে বেঁধে জিম্মি করে তাদের পরিবারের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করে বসে। পরে ১০ হাজার টাকায় রফা হয়। বিকাশে ১০ হাজার টাকা পাঠালে তাদের সিটি হাট বাইপাসে নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। বিষয়টি কাওকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয়।

পরে রাতে এ ঘটনা জানিয়ে বোয়ালিয়া থানায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাতে গেলে সেই থানার পুলিশ পরিদর্শক কয়েক জন সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য ও পুলিশ লেখা একটি সাদা প্রাইভেট কার নিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে ঘটনা স্থলের কাছে লেকসিটিতে যান। সেখানে যোগ দেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা রবিউল সহ তার সঙ্গীরা। তারা সকলেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফিরে জানায় এটি তাদের থানা এলাকা নয় রাজপাড়ার এলাকা। ফলে ভুক্তভোগীদের কোন অভিযোগ না নিয়েই তাদের রাজপাড়া থানায় যেতে পরামর্শ দেয়া হয়। রাত আড়াইটা নাগাদ রাজপাড়ার ওসি শাহদাত হোসেন সহ পুলিশের একটি টিম আবারও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে ঘটনা স্থলের কাছে লেকসিটিতে যান।


তারাও স্থানটি পরিদর্শন শেষে জানান, এটি তাদের থানার আওতাধীন এলাকা নয়। ফলে তারাও কোন অভিযোগ গ্রহন করেননি।

সকাল ১১টায় এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র রুহুল কুদ্দুসের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে কোন থানা যদি এ ঘটনায় সীমানা জটিলতার কারণ দেখিয়ে অভিযোগ না নেয় তাহলে ভুক্তভোগীদের তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। তার মতে ঘটনাস্থল বোয়ালিয়ার সপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সীমানার মধ্যে।

সোমবার দুপুর ১২ টায় প্রোপাইটর আজাদ শেখের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, এখনও তার মামলা নেয়নি কোন থানা। তবে তার দাবি স্থানীয় রাজনৈতীক নের্তৃবৃন্দের ছত্রছায়ায় পালিত দুষ্কৃতিকারীরাই এ ঘটনার সাথে জড়িত। পুলিশ তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিলে তাদের এতো হয়রানী না করে হয়তো আসামীদের আটক করা সম্ভব হতো। ঘটনার সাথে সাথে পাবনার পুলিশ সুপার তাদের মামলাটি নিয়ে দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানালেও সীমানা জটিলতার অজুহাতে সহায়তা মেলেনি রাজশাহী মেট্রোর কোন থানা থেকে বলেও অভিযোগ করেন আজাদ শেখ।